বুড়িচংয়ের জিয়াপুর গ্রাম লকডাউন, দুই শিশু’র দেহে করোনার ভাইরাস সনাক্ত

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২০

 

কাজী খোরশেদ আলম,বুড়িচং(কুমিল্লা) সংবাদদাতা:-ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় ছেলের বাসায় বসবাসরত অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মা সাহেদা খাতুনের মৃত্যুর পর ৬ এপ্রিল পরিবার নিয়ে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জিয়াপুরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আসা গোলাম মোস্তফার পরিবারের সদস্যদের মাঝে দু শিশুসন্তান আব্দুর রহমান (৭) ও আব্দুল্লাহ’র (৫) দেহে করোনার নমুনা পাওয়া গেছে। এঅবস্থায় জিয়াপুর গ্রামটিকে লকডাউন ঘোষনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা তার স্ত্রী ,৩ সন্তানসহ মা সাহেদা খাতুনকে নিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় বসবাস করতেন। ৪ এপ্রিল সাহেদা খাতুন অসুস্থ হলে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। ৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১ টায় তার মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা নিহতের শরীরে করোনার নমুনা আবিস্কার করলে ছেলে মোস্তফা স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ৬ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। বিষয়টি গ্রামবাসী জেনে স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে ৭ এপ্রিল বুড়িচং উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জিয়াপুর গ্রামের মোস্তফা ও তার সহোদর সেলিমের বাড়ি দুটি লক ডাউনসহ মোস্তফা তার স্ত্রী ও ৩ সন্তানসহ ভাই সেলিমের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় পাঠানো রিপোর্টে করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এঅবস্থায় পুরো জিয়াপুর গ্রামটিকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান বলেন, আমরা ছয় জনের নমুনা পাঠিয়েছিলাম । আজ রিপোর্ট এসেছে। যার মধ্যে দুই শিশুর করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে।
তাদের এখন কি অবস্থা এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান জানান, ওই শিশুদের কোন উপসর্গ নেই। তবে তারা করোনা ভাইরাস বহন করছে। তাদেরকে বাড়ীতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বাড়িতেই তাদের চিকিৎসা চলছে।

(সি/স-০৯ এপ্রিল-তা/ই)