কোম্পানীগঞ্জে সংখ্যালঘুর সম্পত্তি দখল নিয়ে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার আশঙ্কা

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০

 

সিলকো সংবাদঃ-নির্মল দে নিতাই (৫০) পিতা মৃত প্রফুল্ল চন্দ্র দে।মা বাবার একমাত্র সন্তান নির্মলদের চার পুরুষের বসবাস সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের বিজয় পাড়ুয়া গ্রামে। পৈত্রিক ভাবে প্রাপ্ত ২৭ একর সম্পত্তির মধ্যে ১১ একর সম্পত্তিই স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ট ভূমিখেকুদের দখলে।বিগত ৩০ বছর যাবত তার সম্পত্তিগুলো ভূমিখেকুরা আস্তে আস্তে দখল করে নিচ্ছে এবং নির্মলকে তিলে তিলে বাস্তুহারা করার নীল নকশা এটেছে স্থানীয় দখলদার প্রকৃতির প্রতিবেশীরা।নিজের সম্পত্তি অন্যরা দখল করে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রাণের ভয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার নেই নির্মলের।

সংখ্যালুগু নির্মলের তেমনি এক হিংস্র প্রতিবেশীর নাম হানিফ মিয়া। বিগত ৩০ বছর ধরে তার সম্পত্তির উপর শুকুনি দৃষ্টি দিয়ে রাখছে।কখনো বাড়ির সীমানা নিয়ে বসত ঘরে হামলা, কখনোবা ফসল নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় অকথ্য শারীরিক নির্যাতন সইতে হয়েছে। জন্মই যেন আজন্মই পাপ।মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হায়েনাদের হাতে তার পরিবারের ৮ সদস্যকে হারিয়ে স্বপ দেখেছিল বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবে।বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু স্বাধীনতা পায়নি নির্মল দে (নিতাই)।প্রতিবেশিরাই যেন তার জন্যে পাকিস্তানি হায়েনারুপ।প্রতি পদে পদে মৃত্যুর হুমকি আর বাস্তুহারা হওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গে নির্মলের।

মেরুদন্ডহীন ও বিবেকবর্জিত ধর্ষিত সমাজ ব্যাবস্থায় টিকে থাকার চেয়ে মৃত্যুই যেন পরম শান্তির। কথা গুলো (নিতাই) এক বাক্যে বলে আরেকটি দীর্ঘশ্বাস নিলেন তারপর আবারো বলতে লাগলেন-দাদা টেলিভিশন আর্কাইভে বাঙ্গালী হিন্দুদের উপর পাকিস্তানি হায়েনাদের আক্রমণ দেখেছেন কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে এমনও অনেক হিন্দু পরিবার আছে যারা পাকিস্তানি নির্যাতনের চেয়ে আরো বেশী নির্যাতিত হয়ে আসছে।

আমার পিতা হতে ওয়ারিশানসূত্রে পাওয়া এই ২৭ একর জমি একসময় পাকিস্তান সরকার শত্র সম্পত্তি হিসেবে খতিয়ানভূক্ত করে ফেলে।ভারতে পাঠিয়ে দিতে আমাদেরকে অনেক নির্যাতন করে পাকিস্তান সরকার।প্রথমে সব সম্পত্তিকে শত্রু সম্পতি ঘোষণা এরপর স্থানীয় রাজাকারদের ধারা প্ররোচিত হয়ে আমার পরিবারের ৮ সদস্যকে হত্যা।তারপরও এই দেশ ছাড়িনি,কারন এই দেশে আমার মা,আমার বাবার দেহ মিশে আছে।পরবর্তিতে আদালতের মাধ্যমে আমার সব সম্পত্তিগুলো রেকর্ডভূক্ত করার সুযোগ পাই।কিন্তু স্থানীয় দখলদার হানিফ মিয়া,কবির মিয়া আসাদ মিয়া সর্বপিতা নুরুল ইসলামের নের্তৃত্বাধীন ৩০/৪০ জন আমাকে এই সম্পত্তি থেকে উৎখাত করতে বিভিন্ন রকম অত্যাচার করে আসছে।ইতোমধ্যে আমার প্রায় ১১ একর সম্পত্তি তারা দখল করে নিয়েছে।

নিতাই প্রতিবেদককে আরো বলেন সাংবাদিকের কাছে এই বিষয়ে মুখ খুলে বলার কারনে তার বাড়ি ঘর পুরিয়ে ফেলবে শাসিয়ে গেছে হানিফ ও তার দলবল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভূক্তভোগী নিতাইয়ের প্রতিবেশী দখলদার হানিফ মিয়া গংয়ের দখলে থাকা বর্তমান বসতবাড়িটিও নিতাইয়ের বেদখল সম্পত্তি।এই জমিটি ২৫ বছর আগে এক শীতের রাতে দখল করে নিয়েছে দখলদার হানিফ গং। বর্তমানে নিতায়ের বসত ঘরের পেছনের পাথর সমৃদ্ধ জমিটিও দখল নিতে দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা করলেও সেই নীল নকশায় সফল জবানীপাত ঘটেছে গত ০৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে।দখলকার্য শেষ করে সেই জমিতে দুটি একচালা টিনসেড নির্মাণও করেছে।৫ এপ্রিল দিনগত রাত প্রায় ১ টার সময় হানিফ, আসাদ,কবিরের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি অশ্রধারী গ্রুপ নিতাইয়ের সদ্য বেদখলীয় জমিতে টিনসেড ঘর নির্মাণ করছিল।নিতাই তাদের বাধাও দিয়েছিল কিন্তু সবাই মারমুখি অবস্থান নেওয়ায় প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নুর ইসলামকে খবর দেয়।ওয়ার্ড মেম্বার দখলবাজদের বাধা দিলেও কাজে আসেনি।মাস কয়েক আগে যদিও বিষয়টি সামাজিক ভাবে বিচারাধীন ছিল।দুই পক্ষই কোন প্রকার ঝামেলায় জড়াবেনা মর্মে সালিশের মাধ্যমে স্টাম্পে দস্থখত দিয়েছিল।
সম্প্রতি সামাজিক বিচারকে উপেক্ষা করে হানিফ গং বিরোধপূর্ন জমিতে ঘর নির্মাণ করায় এলাকায় হিন্দু ও মুসলিম জাতির একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে সেই ক্ষোভ থেকে যে কোন সময় প্রাণহানির মত অপ্রতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

অশ্রধারী এই গ্রুপটির ভয়ে আশে পাশের কেউ মুখ খুলতে চায় না।অবশেষে নিতাইয়ের পাশের গ্রামের একজন মুখ খুলতে বাধ্য হয়- তার নাম তজুমুল আলী।সে বলেন-৪ পুরুষ ধরে নিতাইয়ের পরিবারের সদস্যরা এই জমিতে বিভিন্ন সময়ে ফসল ফলাদি করে আসছে।গত বছর (দখলীয়) এই জমিতেই পাথর কোয়ারী করতে দেখেছি (নিতাই) তাকে। কিন্তু গত কিছু দিন যাবত হানিফ গং তার এই জমি দখল নিতে নিতাইকে বিভিন্ন সময় মারধর করে আসছে শুনেছি। গত তিন দিন আগে রাতের বেলায় জমিতে পা রাখলে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে ঘর তুলে নিয়েছে।তাকে (নিতাই) বলেছি থানায় অভিযোগ দিতে কিন্তু সে ভয় পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নিতাই প্রতিবেদককে বলেন – এই গ্রামে আমার ৪ পুরুষের বসবাস কিন্তু হানিফ গংয়ের অত্যাচারে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।আমার ২৭ একর সম্পত্রির মধ্যে ১১ একর সম্পত্তি হানিফ গং সহ বিভিন্নজন দখল করে নিয়েছে। আমার বসত ঘরের পেছনের জমিটুকুও গত তিন দিন (৬ এপ্রিল) আগে রাত ১ টার সময় আমার হাত পা বেধে দখল করে নিয়েছে।আমাকে হুমকি দিয়েছে যদি থানায় মামলা করি তবে প্রাণে মেরে ফেলবে।মৃত্যুর ভয় নিয়েও নিজের নিরাপত্তা এবং সার্বিক বিষয় চিন্তা করে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।থানায় অভিযোগ দেওয়ার খবর শুনে হানিফের লোকজন আমাকে হত্যার জন্যে শাশিয়ে গেছে।
ঘর নির্মাণকারী হানিফ মিয়া প্রতিবেদককে বলেন- বর্ডার এলাকার জমি কোন রেকর্ড হয়?যে দখল করতে পারে তারই জমি।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানু প্রতিবেদককে বলেন-সংখ্যালুগুর জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি।বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাদিন আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য প্রতিবেদককে বলেন ভূক্তভোগী যদি অভিযোগ দেয় তবে অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

(সি/স-১০এপ্রিল-তা/ই)