পাথর শ্রমিকের দুঃসময়ে কেউ পাশে নেই শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০ সম্পাদকীয়:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারীগুলো দীর্ঘ দিন থেকে বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। শ্রমিকরা বেলচা, টুকরীসহ প্রতিদিন কোয়ারী এলাকায় কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসলেও সারাদিন অপেক্ষা করে কোথাও কাজ না জুটায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারী ভোলাগঞ্জ সহ সব কয়টি কোয়ারী এলাকার অর্ধ লক্ষ শ্রমিকের বর্তমান চিত্র। কোয়ারী সচল থাকলে সিলেটসহ দেশের ৩-৪ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে নিজের জীবন মান উন্নয়নসহ দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তিকে আরো মজবুত করেন। শুধু শ্রমিক নয়, বেকায়দায় পড়েছেন এবার ব্যবসায়ীরাও। দীর্ঘ দিন থেকে কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় পাথরের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। বন্ধ হতে চলেছে ভোলাগঞ্জসহ উত্তর সিলেটের স্টোন ক্রাসিং ব্যবসায়। কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় ওই সব ক্রাসার এলাকা শ্রমিক শূন্য হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট পেশা ছাড়া অন্য কোন পেশা জানা না থাকায় কোম্পানীগঞ্জের পাথর শ্রমিক পরিবারে চরম অভাব দেখা দিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন হত দরিদ্র শ্রমিকেরা। ইতিমধ্যে কোম্পানীগঞ্জের সকল পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়ার দাবিতে সকল শ্রেণি পেশার মানুষেরা জড়ো হয়ে আন্দোলন করলেও কোনো ফলপ্রশু হয়নি। এছাড়াও ভোলাগঞ্জের পাথর শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্থরের শ্রমিকেরা পাথর কোয়ারী সচলের দাবিতে পৃথক পৃথক কর্মসূচী পালন করেছেন। বিভিন্ন কর্মসূচীতে শ্রমিকেরা ‘ভাত চাই না হলে কাজ চাই’ এই শ্লোগানে দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। এ ব্যাপারে সিলেটের পাথর ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা আব্দুর নুর বলেন, পাথর উত্তোল বন্ধ থাকার কারণে কোয়ারী এলাকার শ্রমিকদের মধ্যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যে কারণে কর্মহীন মানুষের হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদিকে কোম্পানীগঞ্জের একমাত্র লীজকৃত উৎমা পাথর কোয়ারী সরকারীভাবে লীজ দেওয়া থাকলেও প্রশাসনের কড়াকড়ি নির্দেশে থাকায় পাথর উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রমিক ইউনিয়ন কোম্পানীগঞ্জ শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন,কোম্পানীগঞ্জের পাথর শ্রমিকের দুঃসময়ে কেউ পাশে নেই।শ্রমিকরা অসহায় ভাবে দিনাতিপাত করছে।কর্মসংস্থান বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা দীর্ঘদিন বেকার বসে রয়েছে।এই ভাবে চলতে থাকলে শ্রমিক অধ্যুশিত কোম্পানীগঞ্জে অর্থাভাবে খাদ্য,চিকিৎসা, শিক্ষা,বস্ত্র ও বাসস্থানের জরাজীর্ণতার শিকার হতে হবে। (সি/স-০২-অক্টোবর-তা/ই) Download News PhotoCard SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: