স্বাস্থ্যবিধির অভাব কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে Desk Desk News প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২১ সম্পাদকীয়:-দেশে করোনা (কভিড১৯) সংক্রমণের হার অকল্পনীয় হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত্যু এবং সংক্রমণের হার প্রতিদিনই বাড়ছে।প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙ্গছে-গড়ছে। করোনা সংক্রমণ রোধে দেশজুরে গত ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন চলছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন সিনিয়র নার্স ও মিডওয়াফ করোনা আক্রান্ত।একজন করোনা উপস্বর্গ নিয়ে আপাতত বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে। এদিকে মেডিকেল অফিসার ডা.খাদিজা শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারনে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে গত তিন ধরে। দুইজন মেডিকেল অফিসার পালাক্রমে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। জনবল সঙ্কটে এলএমএস দিয়ে ওয়ার্ডের টুকিটাকি কাজ চলতো। এলএমএস রতন মিয়াও করোনা উপস্বর্গ নিয়ে বাসায় ৪ দিন যাবত। গত তিন দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টেস্ট করিয়েছে ১০জন। এদের ৫ জনের রিপোর্টে পজেটিভ। গত ৬ জুলাই করোনা টেস্ট করতে টুকেরগাও গ্রামের এক দম্পত্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। রিপোর্টে স্ত্রীর পজেটিভ হলেও স্বামীর রিপোর্টে নেগেটিভ এসেছে। স্ত্রীর করোনা পজেটিভ জানার পরেও স্বাভাবিক ভাবে হাসপাতালে চত্বরে ঘুরতে দেখা গেছে ঐ দম্পত্তিকে। সরজমিনে বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় রোগী দেখছেন ডা.শর্মিতা আচার্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগে (ANC কর্ণার) ভেতরে বাইরে অর্ধশতাধিক রোগী লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবার জন্যে অপেক্ষা করছেন। তাদের অনেকের কোলে শিশু। সেবা নিতে আসা লাইনে দাঁড়ানো কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা।যেখানে তিনফুট দূরত্বে একেকজন অবস্থান করার কথা সেখানে প্রতি তিনফুটে দুইজন রোগী দেখা যায়। ডা.শর্মিতা আচার্য্য গভীর মনোযোগে রুগীদের সেবা দিচ্ছেন।সেবা নিতে আসা রুগীরা এভাবে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করতে থাকলে কমপ্লেক্সের ডাক্তার স্টাফ কেউই বাদ যাবেনা করোনার আক্রমণ থেকে। সরজমিনে এরকম ভাবে গত কয়েক দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় মেডিকেলে আসা রোগী ও দর্শনার্থীরা বেশির ভাগই মাস্ক পড়ছেন না, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছে না। স্বাস্থ্যবিধি অমন্য করেই প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ও রোগী আসা যাওয়া করছে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। সচেতন নাগরিকেরা জানিয়েছেন ইতিমধ্যে হাসপাতালের বেশ্য কয়েক জন ডাক্তার করোনা আক্রান্ত। কেউ আবার উপস্বর্গ নিয়ে বাসায় আইসোলেসনে রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যদি স্বাস্থ্যবিধি না থাকে তাহলে সকল ডাক্তাররা আক্রান্ত হবেন এবং তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও করোনায় আক্রান্ত হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধির পালনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে কোম্পানীগঞ্জে করোনার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে কর্তব্যরত সকল চিকিৎসকেরা। হাসপাতালে আসা রোগী ও দর্শনার্থীরা সচেতন না হওয়ায় আমরা আতঙ্কে নিয়েই কাজ করি। তাদেরকে সচেতনতার পাশাপাশি হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আনসার সদস্য নিয়োগের জন্য দ্রুত আবেদন করব। (সি/স-০৮ জুলাই-তা/ই) SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: