ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দর দিয়ে চুনাপাথর আমদানি শুরু,নেই মেডিকেল টিম, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:-দেশের ২৬ তম স্থলবন্দর “ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর” হয়ে ভারতীয় চোনাপাথরবাহী ৪ টি ট্রাক দিয়ে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।দীর্ঘ ৬ মাস চুনাপাথর আমদানি বন্ধ থাকার পর অবশেষে ২৪ আগস্ট সোমবার বেলা ২ টা ৫০ মিনিটের সময় ভারতীয় ৪টি ট্রাক বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উপজেলা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ভোলাগঞ্জ দিয়ে প্রবেশ করে। শত শত শ্রমিক ও এলসি ব্যাবসায়ীদের উপস্থিতিতে চুনাপাথরবাহী ট্রাক প্রবেশের সাথে সাথে সবাই আনন্দ উল্লাসে ফেটে পরে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ভোলাগঞ্জ দিয়ে ৪ টি ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করলে আমদানি রপ্তানি কারক গ্রুপের পক্ষ থেকে একজন ব্যাক্তি সাধারণ জীবনু নাশক দিয়ে ট্রাকের চাকায় স্প্রে করেন।শেষ হয়ে গেলো করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম ।দীর্ঘদিন আমদানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উৎসুক শ্রমিক জনতা ও অতিউৎসাহী অনেক ব্যবসায়ীদের মুখেও ছিলোনা কোনো মাস্ক।যেন ভারত বাংলাদেশের করোনার মিলনমেলা করার জন্যে সবার উপস্থিতি গঠেছিল।

উপজেলা প্রশাসন,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা প্রশাসন কিংবা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকেও নেই কোনো করোনা প্রতিরোধ ব্যাবস্থা অথবা সচেতনতা কার্যক্রম।

ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার (নাম প্রকাশ ও ছবি তুলতে অপারগ) বাংলাদেশের সীমানার প্রায় ৪ শত গজ ভিতরে প্রবেশ করলেন।বাংলাদেশে প্রবেশ করেই ভারতীয় নাসির বিড়িতে আগুন দিয়ে নিজের ঠুটে গুজে দিলেন।দীর্ঘদিন ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশী ট্রাক ড্রাইভার বন্ধুর সাথে দেখা করা যায়নি। দীর্ঘ ৬ মাস পরে বন্ধুকে দেখার সাথে সাথে বুকে টেনে নিলেন, নিজের মুখ থেকে বিড়িটা বাংলাদেশী বন্ধুর মুখে গুজে দিলেন।শুরো হলো যৌথ আলাপ।৫ মিনিটের আলাপনীতেই আশে পাশের অনেক উৎসুক শ্রমিক জনতার ভির বাড়তে থাকে সেখানে।ভারত থেকে আগন্তক ড্রাইভার যদি করোনা আক্তান্ত কিংবা জীবানু নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাকে তবে করোনায় আক্রান্ত হতে কোম্পানীগঞ্জ বিদ্ধস্থতার জন্যে আর কি প্রয়োজন।

এব্যাপারে ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন (সেবা) বলেন,শারীরিক অসুস্থতার কারনে আমি সেখানে উপস্থিত হতে পারিনি।তবে ভারতীয় ড্রাইভারদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। যেহেতু করোনাকালীন সময় অতিবাহিত করছি আমরা সেজন্যে সবাইকে সচেতন থাকা জরুরি।কাস্টমস ঘাটে যদি একটি মেডিকেল টিম থাকে তবে আমাদের এলাকায় করোনা প্রতিরোধ করা সহজ হতো।

ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দর দিয়ে ভারতীয় চুনাপাথরবাহী ট্রাক প্রবেশ ও ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভারদের স্বাস্থ্যবিধি মানতেছেনা এবং কোনো মেডিকেল টিমের উপস্থিতি নাই কেন এই প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন,এটাতো আমাদের স্থলবন্দর অন্যান্য উপজেলা যেমন জকিগঞ্জ, তামাবিল এগুলো হ্যা স্থল বন্দরে যে মানুষ আসে এই বিষয়ে আমি সিভিল সার্জন মহোদয়কে জিজ্ঞেস করেছিলাম শুরুর দিকেই। বলতেছে এরাতো প্রবেশ করেনা।এরাতা নিদ্রিষ্ট কয়েকশ গজের মধ্যেই তারা আবার রিটার্ন করে । এই জন্যেই নাকি এখানে ব্যবস্থা নাই।যেহেতু স্বাস্থ্যবিভাগ করে থাকে সিভিল সার্জন মহোদয়কে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওনি এভাবে বলেছেন জেলা মিটিংয়ে।

ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দর দিয়ে চুনাপাথর আমদানি শুরু,নেই মেডিকেল টিম, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

স্প্রে মেশিন নিয়ে অপেক্ষামান ব্যাক্তি

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.কামরুজ্জামান প্রতিবেদকে বলেন,আমাদের এখানে স্টাফ এতো কম যে ওখানে দেওয়ার মতো লোক নাই।ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা আমাকে একটা মেডিকেল টিম চেয়েছিল কিন্তু আমাদের এখানে স্টাফ খুব কম তাই লোক দিতে পারিনাই।তাছাড়া ওখানে কেউ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে তবে থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত করেন, ইউএনও মহোদয়কে জানাতে পারেন। তারা হয়তো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারে।প্রয়োজনে আমিও যাবো।

ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দর দিয়ে চুনাপাথর আমদানি শুরু,নেই মেডিকেল টিম, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

বাংলাদেশের ৪ শত গজ ভিতরে প্রবেশকৃত ভারতীয় ট্রাক।

জিরো পয়েন্ট থেকে ৪/৫ শত গজের ভিতরে প্রবেশের বিষয়ে ডা.কামরুজ্জামান বলেন, তারা (ভারতীয় ড্রাইভার) জিরো লাইনের মধ্যেই পাথর আনলোড করা উচিত।দেশের বেশি ভেতরে প্রবেশ করা ঠিক না।এতে করোনা ঝুকির সম্ভাবনা বেশী।

(সি/স-২৪ আগস্ট-তা/ই)