ঘাটে ঘাটে মাদকের হাট শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬ সম্পাদকীয়: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী সংলগ্ন ইসলামপুর নামক স্থান হতে ২৭৯ বোতল বিদেশী মদসহ আহাদ মিয়া (৪৫) নামের ১ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। রবিবার (৭ জুন) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ধলাই নদীর পাড় সংলগ্ন একটি ‘স’মিলের ভিতর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি- একই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মৃত শুক্কুর মিয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবত স’মিল এলাকায় মাদক বিক্রয় করে আসছে। তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও সে র্যাব ও পুলিশের জালে বন্দি হয়ে কারাবাসে ছিল। তার পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে ডজনক খানেক মামলা। একাধিকবার জেল খেটে বেরিয়ে আসলেও পুরনো পেশা আকড়ে ধরে রয়েছে। জনসংখ্যা বহুল এলাকা উপজেলার টুকের বাজার। বৃহত্তর টুকেরগাঁও, নয়াগাঙ্গের পাড়, তৈমুর নগর ও ইসলামপুর গ্রামকে কেন্দ্র টুকের বাজার গড়ে উঠলেও উপজেলার বাণিজ্যিক প্রধান কেন্দ্র এখন এই বাজার। প্রতিদিন ৮/১০ হাজার মানুষ এই বাজারে বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে আসে। কথায় আছে “বাণের জলে শুধু যে মাছ আসে তা কিন্তু নয়, কখনো কখনো কুমিড় ভেসে আসে”। এত এত মানুষের সমাগম যেখানে সেখানে মাদক কারবারিদের নজর থাকবে না এটা কি কোন কথা! বাজারের আশেপাশের চারটি গ্রামের কয়েক ডজন স্পটে মাদক বিক্রি হচ্ছে। কেউ মাদকের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কেউ বা সরাসরি ডিলার হিসেবে চিহ্নিত। কিউবা চিহ্নিত ডিলারের কাছ থেকে মাদক এনে হোম ডেলিভারি দিচ্ছে। এরা খুচরা কারবারি হিসেবে পরিচিত। খুচরা কারবারির সংখ্যাই বেশি। সন্ধ্যা নামলেই এরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে। সেখান থেকে মাদক সেবীরা মূল্য দিয়ে মাদক ক্রয় করে নিয়ে যায়। এসব পয়েন্টের মধ্যে, টুকের বাজার দক্ষিণ পয়েন্ট, গ্রামীণ ব্যাংক পয়েন্ট, লাল মসজিদ পয়েন্ট, লম্বাবিলের দক্ষিণ পাড়, উত্তর ইসলামপুরের মধ্যস্থল, তৈমুর নগর দক্ষিণ ও উত্তর পয়েন্ট, ভাংতির মোড়, বউ বাজারের ৬ টি স্থান, পূর্ব টুকেরগাঁওয়ের কাউছারের বাড়ি, ছাত্তির টুক, টুকেরগাও মাদরাসার পূর্বে ধলাই নদীর পাড়, নয়াগাঙ্গের পাড়ের গুচ্ছগ্রাম, পশ্চিম টুকের গাও ধলাই নদীর পাড়, বাশ বাজার, টুকের বাজার উত্তর পয়েন্ট, ভাঙ্গারি পট্টি, টুকের বাজার মুচির বাড়ি, ফারুক মাস্টারের বাড়ির দক্ষিণে শেখ ফরিদ মেম্বারের বাড়ির পূর্বে বিভিন্ন চা স্টলের সামনে, ঈদগাহ ময়দানের উত্তরে আহাদের বাড়িতে সহ আরও কয়েকটি পয়েন্টে মাদক বিক্রি করে আসছে চক্রের বিভিন্ন সদস্যরা। বলতে গেলে চারটি গ্রাম ও টুকের বাজারকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে মাদক কারবারিরা। অন্যন্য পেশার তুলনায় গড়ে দশজনের একজন এখন মাদক পেশা ও সেবনে জড়িয়ে পরেছে। এ যেন মাদকে ডুবে গেছে যুব সমাজ। অর্থের যোগান দিতে চুরিতে লিপ্ত হচ্ছে আসক্ত যুবক ও কিশোররা। হাতের নাগালেই মিলছে বিভিন্ন পদের মাদক। একটা সময় ভারতীয় অফিসার চয়েজ ছিল মাদক সেবীদের পছন্দের তালিকায়। এরপর ফেন্সেডিল, রিকোডিক্সে আসক্তি বাড়ায়। সময়ের সাথে সাথে মাদকসেবীদের চাহিদার পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কিশোর ও বেকার যুবকদের হাতে মুড়ির মত মিলছে ইয়াবা। ইয়াবা কেনার অর্থ জোগান দিতে না পারলে সস্তা দরের গাজা তো রয়েছেই? সিগারেটের তামাক খুলে এর ভেতরে গাজা পুড়ে সেবন করছে ১৭-৩৫ বছরের কিশোর, শিক্ষার্থী ও যুবকরা। শুরুতে পরিবার থেকে মাদকের টাকা জোগাড় করতে পারলেও বর্তমানে আসক্ত ব্যক্তিরা রাতের বেলায় চুরির মত নতুন অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে। সন্ধা হতেই নেমে পড়ে নিরব-নিস্তব্ধ বাড়ির খোজে। বাড়ির বদনা থেকে শুরু হাস,মুরগী পুকুরের মাছ কোনো কিছই বাদ যাচ্ছে না। অনেক কৃষকের সেলো মেশিন, পানির টিউবওয়েল সব কিছুই এখন মাদক সেবীদের নজড়ে পড়ছে। এসব বিক্রি করছে টুকের বাজারের বিভিন্ন ভাঙ্গারির দোকানে। যেখান অল্প দামে….. আগামী পর্বে যা থাকছে ” অর্থ জোগানে ভাঙ্গারির দোকানে মাদক সেবীদের ভীর” SHARES অপরাধ বিষয়: