নৌকা প্রার্থীর বিপক্ষে যুবলীগ নেতা, ফেসবুক লাইভে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে থাকার ঘোষণা

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২১

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক প্রাপ্ত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান করে লাইভে এসে জেলা আওয়ামী লীগকে ঢালাও দোষারোপ করলেন উপজেলা যুবলীগ নেতা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচন চালানো সেই নেতা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সুহেল আহমদ সুহাম। সে বিদ্রোহী প্রার্থী সদ্য বহিস্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ উদ্দিনের ছোট ভাই।

সুহেলের বিরুদ্ধে নৌকা মার্কার প্রচারণা শিবির ও মাইকিংয়ে বাধা এবং ভাংচুর সহ কর্মীদের মারধরের অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফয়জুর রহমান। ফয়জুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকর্মীকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করলেন সুহেল।

https://www.facebook.com/249347416010226/posts/903380510606910/

লাইভের এক পর্যায়ে যুবলীগ সদস্য সুহেল আহমদ সুহাম বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। সুহেল আরও বলেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আজমল আলী ও তার ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত।তাকে প্রাণে মারার জন্যে নৌকার সমর্থকরা একাট্টা বলে জানান। আরও বলেন, যেহেতু ফরিদ উদ্দিন আমার ভাই (বিদ্রোহী প্রার্থী) তার পক্ষে আমাকে কাজ করতে হবে।

https://www.facebook.com/249347416010226/posts/903378597273768/

লাইভের এক পর্যায়ে সুহেল বলেন, জেলা (সিলেট) আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সিলেটে বসে এই ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।

সদ্য বহিস্কৃত ফরিদ উদ্দিনের পক্ষে প্রচারণা চালানো সুহেল আহমদ ছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনও নৌকা প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ফরিদ উদ্দিনের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্প্রতি বিদ্রোহী প্রার্থী ফরিদ উদ্দিনকে বহিস্কার করলেও দলীয় পদে থেকে দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ফরিদ উদ্দিনের ছোট ভাই সুহেল আহমদ ও গিয়াস উদ্দিন নৌকা প্রার্থীর বিপক্ষে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে জানান উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আনসার উদ্দিন।

ইউপি নির্বাচনের নমনিনেশন দাখিলের দিন গত ৪ অক্টোবর বিকালে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খাঁন বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিস্কারের হুমকি দিয়েছিলেন। এ সময় তিনি বলেছিলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো সেই সব পদবীধারী প্রচারকদের বিরুদ্ধেও দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নৌকা প্রার্থীর বিপক্ষে প্রচারণা চালানো ও সিনিয়র নেতাদের দোষারোপকারী সুহেল আহমদের বিষয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শামিম আহমদ বলেন, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সুহেল আহমদ নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে শুনেছি। সঠিক প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে তদন্তকাজ চলছে।উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আলা উদ্দিন ও যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহমানকে সেই তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বলে দিয়েছি সুহেলকে শোকজ করার জন্যে। সঠিক মন্তব্য না দিতে পারলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, এডভোকেট আজমল আলী বলেন, দলীয় পদে থেকে নৌকার বিপক্ষে প্রচারণা চালানো যাবে না। সুহেল উপজেলা যুবলীগের সদস্য। দলীয় পদে থেকে কি করে সে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে সে বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দরা বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন আমাকে। তিনি আরও বলেন, আমি জানতে পেরেছি সুহেল নৌকার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি এবং নৌকা সমর্থকদের মারধর করেছে। তার সব অপকর্ম ঢাকতে পূনরায় লাইভে এসে মিথ্যাচার করেছে সে। আমি সহ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে সে । যারা দলীয় পদে থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগকে অনুরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

(সি/স-০৪ নভেম্বর-তা/ই)