ছাতকে এতিমখানায় শিশু নির্যাতন: আটক হলেন মাদরাসা সুপার

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২১

আব্দুস ছালাম শাকিল ছাতক থেকে:-সুনামগঞ্জের ছাতকে এক এতিমখানার ৩শিশুকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনার অভিযুক্ত সেই মাদরাসা সুপার মাওলানা মো.আব্দুল মুকিত (৪০) কে আটক করেছে থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে। বহুল আলোচিত এই নির্যাতনের ঘটনার প্রায় এক বছর পর তাকে আটক করা হলো। বুধবার সকাল ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি এতিম শিশুদের নির্যাতনের ধারনকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর পুরো সিলেট বিভাগ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নে ‘হাজী ইউসুফ আলী এতিমখানা’ নামের হাফিজিয়া একটি মাদরাসা রয়েছে। এখানে আশাপাশ এলাকার অসহায়-দরিদ্র ও এতিম শিশুদের পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কোন একদিন ক্লাস চলাকালে ফ্লোরে প্রসাব করে দেয় মাদরাসার ৩শিশু। এ ঘটনায় এতিমখানার মাদরাসা সুপার আব্দুল মুকিত ৩তিন শিশুকে ক্লাসের ভেতরে বেদড়ক পেটানো শুরু করেন। শিশুদের পেঠানোর এই ঘটনাটি কৌশলে ভিডিও করে রেখে দেন জনৈক শিক্ষক।

ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া শিশু নির্যাতনের ভিডিওতে দেখা গেছে, মাদরাসা সুপার একটি স্টিলের স্কেল দিয়ে ওই ৩ শিশুকে নির্দয় ভাকে আঘাত করছেন। ৩য় শ্রেনীর পড়ুয়া ৩শিশু আবু তাহের (৯), মো.রবিউল (১০) ও সুফিউর রহমান (১১) আঘাত পেয়ে অঝরে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। শিশুরা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পায়ে ধরে কাঁন্না করতে থাকে। এরপরও মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুল মুকিত এতিম শিশুদের প্রতি সদয় হননি।

কিছুদিন পূর্বে মাদরাসা সুপার মাওলানা মো.আব্দুল মুকিতের সাথে ওই শিক্ষকের মনোমালিন্য সৃষ্টি হলে তিনি গত ৫নভেম্বর নিকট আত্মীয় জনৈক আনোয়ারের ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে ভিডিওটি ফেইসবুকে পোষ্ট করেন। আলোচিত নির্যাতনের ওই ভিডিওটি মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় তাৎক্ষনিক ভাবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গত ৬ নভেম্বর মাদরাসা সুপার আব্দুল মকিতকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.কমর উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি বেশ পূরনো। এ ঘটনায় নির্যাতনকারী শিক্ষকসহ ভিডিও ধারণকারী ওই শিক্ষকও জড়িত। দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। তাই আমরা দু’জনকেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।
থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযুক্ত মাদরাসা সুপার মাওলানা মো.আব্দুল মুকিতকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

(সি/স-১৮ নভেম্বর-তা/ই)