ছুটিতে যাচ্ছেন শাবি ভিসি

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ৪:০২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২২

 

সিলকো ডেস্ক:- পদত্যাগ নয়, ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন সমঝোতার মাধ্যমে ছুটিতে যাচ্ছেন বলে গুন্জন উঠেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী টিম সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। এমন কথা গতকাল ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। ইতিমধ্যে সমঝোতার কিছু নমুনাও চোখে পড়ছে সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সরিয়ে নেয়ার দাবী ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বিগত কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মঙ্গলবার রাত থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, শাবির অচলাবস্থা নিরসনে এত বিলম্ব কেন হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে। ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দৃশ্যত তাকিয়ে আছেন সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে। তার পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো সমাধান মানতে রাজি নন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন ফোরামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যে কারণে শিক্ষকদের সংগঠনগুলো দৃশ্যত তার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। পুরনো রীতি মেনে ষড়যন্ত্রের গন্ধও পাচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ভিসির বাসভবনে বিদ্যুৎ লাইন কাটার পর আবার সংযোগ লেগেছে। চাপ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা বিঘ্নিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা এও বলেছেন, যে বিকাশ এবং রকেট নাম্বারে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অর্থ সহযোগিতা করতেন তা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দুই সাবেক ছাত্রকে তুলে নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙতে সিলেট আসছেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মুহাইমিনুল বাসার রাজ। জানা যায়, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল রাত ৩টার দিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছাবেন। ঢাকা থেকে স্যার রওনা দিয়েছেন। তিনি এখন রাস্তায় রয়েছেন। তারা জানান, জাফর ইকবালের সহধর্মিণী ড. ইয়াসমিন হকও তাঁর সঙ্গে ক্যাম্পাসে আসছেন। তিনি এসে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙ্গানোর চেষ্ঠা করবেন বলে জানা গেছে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের তিনি জানিয়েছেন ভালো একটি খবর নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে আসছেন। আর সেই ভালো খবরটি হলো ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন সমঝোতার মাধ্যমে ছুটিতে পাঠিয়ে দিতে সরকারের উচ্চ মহল রাজি হয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত করতে হবে তাই নিরেপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে আপাতত ছুটিতে পাঠানো হবে এমন একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সংবাদ সম্মেলন অনশনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, আমাদের সহযোদ্ধারা আমাদের এই অবস্থা দেখে অনুরোধ জানান, অনশন ভেঙে ফেলার। কিন্তু আমরা অনশনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই যে, আমরা অনশন ভাঙবো না। আমরা এ উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো এবং চেষ্টা করবো।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ সাবেক শিক্ষার্থীকে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন আন্দোলনে অনশনরত শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যখনই কোনো আন্দোলন করি, তখন অর্থের প্রয়োজন হয়। এজন্য আমরা সিনিয়রদের কাছে হাত পাতি। তারা তাদের সামর্থ অনুযায়ী আমাদের সাহায্য করেন। এখানেও তারা আমাদের সাহায্য করেছেন। কারণ আন্দোলনে অনেকের খাওয়া-দাওয়া, অনশনরতদের চিকিৎসা খরচসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজনে তারা আমাদের সাহায্য করেছেন। এখানে তাদের অপরাধ কি আমরা জানি না। শুধুমাত্র এই ঘটনায় তাদের আটকের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। তবে সংবাদ সম্মেলনের পর বিভিন্ন সূত্রের দাবী মূলতঃ শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙতে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল সিলেট আসছেন এ খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে রাজি হয়নি। জাফর ইকবালের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা অনশন ভাঙবে বলে জানা গেছে। তারপর জাফর ইকবাল সমঝোতার মাধ্যমে ভিসিকে ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তাব দিবেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২৫ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে ২০১৮ সালে অবসর নেন তিনি।

১৭ জানুয়ারি থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। বাসবভনের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ার কারণে ১৭ জানুয়ারি থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।