ইউএনও’র বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার: নিন্দা জানালেন মুক্তিযোদ্ধারা

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক:-বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল মতলিবের প্রাপ্য দাফন কাফনের টাকা অন্যরা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে জানতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং’র কাছে গিয়েছিলেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তান। বিনা অনুমতিতে অফিসে প্রবেশ ও চেয়ারে বসা নিয়ে আগত দুইজনকে দুর্ব্যবহার করলেন ইউএনও লুসিকান্ত হাজং। এমন অভিযোগে “ইউএনও’র দুর্ব্যবহারে কাদলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী” শিরোনামে সিলেটের দৈনিক পত্রিকায় গত বৃহস্পতিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী তারিখে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমলোচনার মুখে পড়েন ইউএনও লুসিকান্ত হাজং। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও লুসিকান্ত হাজং ঘটনাটি অস্বিকার করে বলেন, ঐদিন তেমন কিছুই ঘটেনি। অনেকেই সে দিন উপস্থিত ছিলেন। ঐদিন তারা এসেছিল ঠিক। বিনাঅনুমতিতে অফিসে প্রবেশ এবং চেয়ারে বসা নিয়ে কাউকেই দুর্ব্যবহার করিনি সেদিন। তাদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করেছি।তাদের সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম।

প্রকাশিত সংবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতলিবের ছেলে আলমগীর হোসেন বলেছিলেন, “আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে সরকার যে দাফন-কাফনের টাকা দেয় সেই টাকা আমরা পাইনি। ইউএনও অফিস থেকে জানতে পারি আমার বাবার দাফন-কাফনের টাকা টিপসই দিয়ে কে উঠিয়ে নিয়েছে। এই টাকা আমাদেরকে না দিয়ে কাকে দেওয়া হয়েছে বিষয়টি জানার জন্য আমার মাকে নিয়ে আমি ইউএনও অফিসে গিয়েছিলাম। অফিসে গিয়ে চেয়ারে বসার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন কি কারণে অফিসে গেলাম। আমরা বিষয়টি বলতেই তিনি বলেন, তোমাদের কোন কমনসেন্স নেই। কখন অফিসে ঢুকতে হয় তা জান না? অফিসে কত গোপনীয় কাজ থাকতে পারে তা না জেনেই অফিসে ঢুকে চেয়ারেও বসে গেলে। এরপর উচ্চস্বরে ধমক দিয়ে তিনি অফিস থেকে বের করে দেন”। প্রকাশিত সংবাদে আলমগীরের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ও আমার আম্মা মায়মনা খাতুন অফিসে গিয়েছিলাম ঠিক তবে ইউএনও সাহেব দুর্ব্যবহার করেনি। বিষয়টি ভূল বুঝাবুঝি হয়েছিল। তাছাড়া ঐদিনের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে উদ্বৃত বক্তব্য আমি দেইনি। সাংবাদিক সাহেব নিজ থেকেই সেই বক্তব্য জুরে দিয়েছিলেন। পরবর্তিতে রোববার সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতলিবের স্ত্রী মোছাঃ ময়মনা খাতুন। মায়মুনা খাতুন বলেন ইউএনও সাহেব আস্বাস দিয়েছে টাকা উত্তোলন করার বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। সেই সাথে জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিলকৃত সেই অভিযোগটিও প্রত্যাহার করে নিব।

কি হয়েছিল সেদিন?

বৃহস্পতিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী বেলা সারে বারটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজংয়ের অফিসে গিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল মোতালিবের স্ত্রী ও সন্তান। বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে আলমগীর তার পিতার দাফন কাফনের টাকা কে বা কাহার টিপসই দিয়ে উত্তোলন করে নিয়ে গিয়েছে বলেছিলেন। ইউএনও তখন অন্য একটা কাজে ব্যাস্ত থাকায় বলেছিলেন আপনাদের কমনসেন্স থাকা উচিত ছিল।দেখতে পারতেছেন অন্য কাজ করছি। আপনারা বসেন আমি কাজটা শেষ করেই আপনার কথা গুলো শুনবো। এর পর আলমগীর ও তার মা অফিসে দাড়ায়নি। অফিস থেকে বেরিয়ে চলে গেলেন।

অফিসে তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এখলাছ আলী সহ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জনি রঞ্জন দে ও আইসিটি অফিসার নাঈম আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরকে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করেন।

সংবাদটি জানাজানির পরপরই উপজেলা জুরে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে ছুটে আসেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। তৎকালীন সময়ে উপস্থিত ব্যাক্তিদের স্বাক্ষে ব্যাপক যাচাইয়ের পর ঘটনার কোনো প্রমান না পাওয়ায় বিষয়টি নিস্পত্তির জন্যে চেষ্টা করেন আগত সবাই।
তাৎক্ষণিকভাবে ভূল বুঝাবুঝির বিষয়টি নিস্পত্তির জন্যে সোমবার ২৮ ফেব্রুয়ারী তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ড নেতাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সমন্নয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল মোতালিবের স্ত্রী ও সন্তান উপস্থিত থেকে প্রকাশিত সংবাদে তাদের উদ্বৃত বক্তব্যটি অস্বীকার করেন এবং সংবাদটি প্রত্যাহারের জন্যে সেই দৈনিক পত্রিকার কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। আলোচনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। সেই দিন এমন কোনো অপৃতিকর ঘটনা ঘটতে দেখিনি। ইউএনও সাহেব মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী কিংবা তার সন্তানের সাথে দুর্ব্যবহার করেনি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’র প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা চান মিয়া বলেন, যা বুজলাম সেই দিনের ঘটনাটি ভুলবুঝাবুঝি মাত্র। সামান্য বিষয়টি নিয়ে পত্রপত্রিকায় লিখালিখি ঠিক হয়নি। আমি সেই প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা জানাই।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কোম্পানীগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক আহমদ বলেন, ভুল বুঝাবুঝির বিষয়টি মিমাংসা হলেও প্রকাশিত সেই মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই। যারা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারদের নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় তাদের ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ড সর্বদা জাগ্রত। তাদেরকে সাবধান করে দিচ্ছি যে,ভবিষ্যতে এইরকম অপকর্মের সাথে জড়িত হলে আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এম সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোল্লা,উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা নাঈম আহমদ,সমাজসেবা অফিসার জনি রঞ্জন দে,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কোম্পানীগঞ্জ শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেনসহ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের বেশকয়েকজন নেতাকর্মী।