বাড়িতে সাদা পাথর মজুদ বিক্রির অপেক্ষায়

প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২২

 

ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর। দেশের অন্যতম নজরকাড়া প্রাকৃতিক পর্যটন স্পট। সাদা পাথরে সমৃদ্ধিশালী হয়েছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। পাথর-জল আর গোধূলির সূর্যরশ্নির মিলনে ভোলাগঞ্জ জিরো লাইন যেন ‘সাদা সোনা’র খনিতে রুপান্তরিত হয়েছে। সাদা সোনা’র রুপে মুহনীয় পর্যটকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে প্রতিদিন। শ্রমিক অধ্যুষিত উত্তর সিলেটের বেকার জনগুষ্টির জন্যে অপার সম্ভাবনা হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সাদা পাথর পর্যটনকে ঘিরে তরুণ উদ্যোক্তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। পাশাপাশি পর্যটন নগরী সিলেট যেন আরও এক ধাপ সমৃদ্ধের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সাদা পাথরকে ঘিরে একটি চক্র ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করেছে। পর্যটন কেন্দ্র থেকে পর্যটকদের নজর ফিরিয়ে দিতে সুন্দর্যমন্ডিত এই সাদা সোনা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ পাথরখেকোরা।

রাতের আঁধারে ভোলাগঞ্জ জিরোলাইন থেকে লুট করা হচ্ছে পাথর। প্রতিদিন অর্ধশতাধিকের বেশি নৌকা যোগে পাথর লুটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ক্রাশার মিলে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানেও মিলেছে সত্যতা।  কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ সাদা পাথর লুটের ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। তবুও বন্ধ হচ্ছে সাদা পাথর লুট। স্থানীয় সাহাব উদ্দিন চক্রের সাথে হাত মিলিয়েছে কয়েকটি মিল মালিকরাও।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, স্থানীয় খাজা মিলের মালিক আব্দুর রকিব শিকদার সাহাব উদ্দিন সিন্ডিকেটের সাথে আতাত করে প্রতিদিন চোরাই সাদা পাথর তার নিজস্ব ক্রাশার মেশিন দিয়ে ভাঙ্গা হচ্ছে। এরপর সেই পাথর চড়ামূল্যে বিক্রি করছে। অন্যান্য পাথরের তুলনায় সাদা পাথরের গুনগত মান উন্নত হওয়ায় এই লুন্ঠনদৃষ্টি পড়েছে। সম্প্রতি পুলিশের সারাশি অভিযান চললেও চক্রটি তাদের কৌশল বদলেছে। আগে লুন্ঠিত সাদা পাথর ক্রাশার মিলে মজুদ রাখলেও বর্তমানে নিরাপত্তার অভাবে বাসা বাড়িতে মজুদ করা হচ্ছে।

বাড়িতে সাদা পাথর মজুদ বিক্রির অপেক্ষায়

আব্দুর রকিব শিকদার

চোরাকারবারী দলের সদস্য আব্দুর রকিব শিকদার প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন, কালাইরাগ সীমান্ত ঘেষা সাদা পাথর তার বাড়িতে এনে মজুদ করেছেন। তবে সে দাবী করেছেন এই পাথর সে ট্রলি মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। প্রতি ট্রলি পাথর (২৮/৩০ ফুট) সারে তিন হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন।

এদিকে চোরাকারবারিদের সাথে স্থানীয় কয়েকজন নামধারী সাংবাদিকের গোপন আতাত রয়েছে বলে জানা যায়। গভীর রাতে লুটকৃত সাদা পাথর কলাবাড়ি গ্রামের নির্জনস্থানে মজুদ করে নিরাপদ সময়ে ট্রাক দিয়ে সিলেটের ধূপাগুলে বিক্রি করেন সেই কথিত সাংবাদিক চক্রটি। এদের সাথে কিছ অসাধু পুলিশ সদস্যও জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়।

এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, সাদা পাথর লুটের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। যারাই এর সাথে জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে থানা পুলিশ । যদি প্রমান পাই তবে মামলা হবে। আমাদের অভিযান পূর্বের ন্যায় অব্যহত থাকবে