ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত আকিব বাড়িতে ফিরলেন

প্রকাশিত: ১:১৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২২

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গুরুতর আহত মাহাদি জে আকিব দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

মঙ্গলবার মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের এ শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি নিজ বাড়ি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. নোমান খালেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আকিব এখন পুরোপুরি সুস্থ। সেকারণে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার আগে আকিবের বাবা স্কুলশিক্ষক গোলাম ফারুক মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, “ছেলে অসুস্থ হলে সব মা বাবা উদ্বিগ্ন থাকে। যা হয়েছে আমি মেনে নিয়েছি। সবার দোয়ায় সে এখন সুস্থ। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।“

প্রথম দফা অপারেশনের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহাদি জে আকিব। ফাইল ফটো

২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর গুরুতর আহত আকিবের মাথার খুলি খুলে রেখে অস্ত্রপচারের বিষয়টি ওই সময় বেশ আলোচনায় এসেছিল।

চমেক ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে ২৯ অক্টোবর রাতে। এর জের ধরে পরদিন ৩০ অক্টোবর দুপুরে আবার সংঘর্ষ হয়।

সেদিন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আকিবকে ক্যাম্পাসের অদূরে পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারের সামনে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র, স্ট্যাম্প, রড, ছুরি ও কাঁচের বোতল নিয়ে তার উপর হামলা চালানো হয় বলে তার পক্ষের নেতাকর্মীদের দাবি।

ওইদিন তার মাথায় অস্ত্রোপচার করে খুলির একটি অংশ (হাড়) খুলে পেটের চামড়ার নিচে রাখা হয়েছিল। তখন আইসিইউতে থাকা আকিবের মাথার ব্যান্ডেজের ওপর লিখে দেওয়া হয়েছিল, ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’। পরে সুস্থ হয়ে সে বাড়ি ফিরেছিল।

দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হবার পর গত ২৮ মার্চ তার মাথার হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়। এ কয়দিন তিনি হাসপাতালের কেবিনেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। অস্ত্রোপচার স্থানের সেলাই কাটার পর পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে হাসপাতাল ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়।

ডা. নোমান বলেন, আকিব মানসিক ও শারীরিকভাবে স্বাভাবিক কাজের জন্য পুরোপুরি ঠিক আছেন। তবে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতাল আসতে হবে।