আজ জেল হত্যা দিবস Desk Desk News প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২২ বাঙালি জাতির জীবনে শোকাবহ জেলহত্যা দিবস আজ ৩ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার আড়াই মাস পর এই দিনে হত্যা করা হয় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতাকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০০৪ সালে নৃশংস এই হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হলেও দণ্ডপ্রাপ্ত ১০ খুনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে এবং নূর চৌধুরী কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই রাষ্ট্রপক্ষের কাছে। নিহত জাতীয় চার নেতা হলেন- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান ও অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই দুই মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ কার্যকরের জন্য ২০১০ সালের ২৮ মার্চ এ-সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যা মামলার আসামি একই। এরই মধ্যে ৬ খুনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। আরও যারা পলাতক আছে, তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছে। খুনিকে আশ্রয় দেওয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে গত ১ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে। হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেছি, তাদের দেশের আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে নূর চৌধুরীকে যাতে আমাদের দেশে ফেরত পাঠাতে পারে সেই পন্থা খুঁজে বের করার জন্য। হাইকমিশনার বলেছেন, তিনি সেটি কানাডা সরকারকে জানাবেন।’ জাতীয় চার নেতাকে ঢাকার তৎকালীন কেন্দ্রীয় কারাগারে (বর্তমানে জাদুঘর) ঢুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন তৎকালীন ডিআইজি (প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু ২১ বছর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর কলঙ্কিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারের পথ উন্মুক্ত হয়। শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর জেলহত্যা মামলায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায়ে আসামি তিনজনকে মৃত্যুদ এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ দেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধা। যাবজ্জীবন কারাদ প্রাপ্তরা হলেন- খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএম বি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ, আহমদ শরিফুল হোসেন, মো. কিসমত হোসেন, নাজমুল হোসেন আনসার, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, একে বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন। এ ছাড়া রায়ে সাবেক মন্ত্রী কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়। SHARES গণমাধ্যম বিষয়: