বাংলাদেশ নিয়ে ইতালির ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:- সম্প্রতি করোনার ভুয়া সনদ নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ইতালি যাওয়ার নিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো সঠিক নয়। এজন্য এসব সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির সম্পর্কের কোনো হেরফের হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার৷ তার দাবি, বাংলাদেশ নিয়ে ইতালিতে কোনো আস্থার সংকট নেই৷

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার৷ সাক্ষাৎকারটি নেন গণমাধ্যমটির বাংলা বিভাগের প্রদান খালেদ মুহিউদ্দীন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে৷ এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদৌ কোনো চিড় ধরে নাই, বরং আরও উন্নত হয়েছে৷ ইতালির সাথে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে৷’

রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি ইতালির নাগরিকদের সঙ্গেও বাঙালিদের সুসম্পর্ক রয়েছে৷ এখানকার থানার লোকজনও বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করে৷ ইতালির কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশিদের ভালো জানে৷’

অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইতালির স্থানীয় নাগরিকরা বাংলাদেশিদের অশ্রদ্ধার চোখে দেখছেন, বাংলাদেশিরা বিরূপ আচরণের শিকারও হচ্ছেন-সঞ্চালক খালেদ মুহিউদ্দীন এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত এসব দাবির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ ইতালির গণমাধ্যমে বাংলাদেশিরা ভুয়া করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছেন বলে খবর বেরিয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাস্তব ঘটনা হলো, নেগেটিভ সার্টিফিক্যাটের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না৷ করোনা সার্টিফিকেট বিমানবন্দরে চাওয়া হয়নি।’ বিষয়টি নিয়ে সেখানকার গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হলেও তা ছাপানো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।

ইতালিতে ফ্লাইট কবে খুলছে-জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত জানান, গত ৬ জুলাই ঢাকা থেকে যে ফ্লাইটটি রোমে এসেছে সেখানকার যাত্রীদের সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ সেই ফ্লাইটের মোট ৪৮ জন বাংলাদেশি করোনা পজিটিভ হয়েছেন৷ তাদের সবাইকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ বাকিদেরও বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে৷ শুরুতে ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের জন্য ফ্লাইট বাতিলের কথা বলা হলেও পরে সেটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে৷

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তাদেরকেও এমন তথ্যই জানিয়েছে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এর মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেখানকার সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবে৷ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইতালিতে যাতে বাংলাদেশিরা ফিরতে পারেন সে বিষয়ে তারা (ইতালির কর্তৃপক্ষ) আন্তরিক থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস৷’

(সি/স-১৮ জুলাই-তা/ই)