সরকারি গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ,অভিযুক্তকে বাচাতে তদন্ত কমিটির দৌড় ঝাপ

প্রকাশিত: ১:২৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

 

স্টাফ রিপোর্টার:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নারাইনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকার গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল রঞ্জন সরকারকে বাচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা।শুধু তাই নয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগকারী এসএমসি কমিটির শিক্ষানুরাগী দেলোয়ার হোসেনকে নানান ভাবে প্রলুব্ধ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্যে দফারফা করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১ টার সময় নারাইনপুর বিদ্যালয়ের কক্ষে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) শহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্টিত হয়।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় অভিযোগকারী দেলোয়ার হোসেন তার অভিযোগ প্রত্যাহার করবে এবং প্রধান শিক্ষক তার আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দিবেন। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন এসএমসি কমিটির সহ সভাপতি শাহিন আহমদ, ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার আজির উদ্দিন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন আনাই,আইয়ুব আলী,সাবেক মেম্বার শাহনুর সহ স্থানীয় কয়েকজন।বৈঠকে উপস্থিত বেশিরভাগ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাহ আরফিন টিলা পাথর লুট, পরিবেশ বিদ্ধংসী ও শ্রমিক হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে।

একাধিক হত্যা মামলা ও পরিবেশ বিনস্টকারী আসামীদের সাথে অর্থ আত্মসাৎকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল রঞ্জন সরকারের গোপন আতাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে উঠেছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) শহিদুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নামে দুই পক্ষকে সমঝোতা করে সরকারী অর্থ আত্মসাৎকারীকে বাচানোর চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় যুবক জলিল।দুই পক্ষের সমঝোতা করিয়ে দেওয়াকে দূর্ণীতির সাথে আপোষ করেছেন বলেন স্থানীয় মনির মিয়া।

এব্যাপারে (এটিও) শহিদুলকে ইসলাম বলেন,আমি তদন্ত করতে গিয়েছিলাম,ওখানে দুই পক্ষ সমঝোতা করে পূর্বের অভিযোগ প্রত্যাহার করতে একটি লিখিত দিয়েছেন আমার কাছে।অনুমতি ছাড়া সরকারী গাছ কেটে অর্থ আত্মসাৎয়ের বিষয়টি আবার মিমাংসা হয় কি করে? প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর দিতে পারিনি এটিও শহিদুল ইসলাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,তদন্তে কোনো স্বজনপ্রীতি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজকের (২০ আগস্ট) সমন্বয় সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেছি।

তিনি আরো বলেন, ১ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জামাল উদ্দিন বলেন,৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার আজির উদ্দিন তালুকদার আমাকে বিষয়য়ি অবগত করেছে।তিনি বলেছেন স্থানীয়ভাবে সমাধান করেছেন।প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে সরকারী গাছ কাটার বিষয়টিকে কিভাব দেখছেন? প্রশ্নের জবাবে জামাল উদ্দিন বলেন,সরকারী গাছ কাটতে অবশ্যই প্রশাসনের অনুমতি লাগবে।

সমাধানের বিষয়টি নিয়ে শাহ জামাল উদ্দিন চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ওয়ার্ড মেম্বার আজির উদ্দিন আমাকে সমাধানের বিষয়টি অবগত করেছে তবে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।
তিনি আরো বলেন,সরকারী গাছ কাটতে হলে প্রশাসনের অনুমতি লাগে।যদি কেউ কেটে বিক্রি করে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

উল্লেখ্য নারাইনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৮ টি কাঠগাছ প্রশাসনের অনুমতিবিহীন চুরি করে বিক্রি ও অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন এসএমসি কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্ত করার জন্যে (২০ জুলাই) উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য। পরবর্তিতে আরো একটি অভিযোগ এসেছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য।সেই অভিযোগটি আমলে নিয়ে (৩০ জুলাই) তদন্তভার দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে।(এটিও) শহিদুল ইসলামও স্বীকার করেন অভিযোগের কথা। অভিযোটি করেছেন নাকি দেলোয়ার হোসেন। প্রথমটি অভিযোগে উল্লেখ ছিলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত করবে এবং ডকেট নাম্বার ছিলো ৩৫৫।দ্বিতীয়টিতে উল্লেখ ছিলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত করবে এবং সেই অভিযোগ পত্রে ডকেট নাম্বার ৩৬১।এটিও শহিদুল ইসলাম আরো বলেন, দেলোয়ার হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তদন্ত করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন দুটি অভিযোগ এসেছে,প্রথমটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তভার দিয়েছি।পরবর্তিতে দ্বিতীয় অভিযোগ আসলে সেটার তদন্তভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দিয়েছি।

তবে বিশেষ কথা হলো দেলোয়ার সাহেব অভিযোগ দিয়েছেন একটা কিন্তু ইউএনও সাহেবে পেয়েছে দুইটি।তিনি দুটি অভিযোগের তদন্তভার দুই শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেন।

অভিযোগ প্রদানকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন আমি একটি অভিযোগ দিয়েছি এবং সেটি ৯ আগস্ট ২০২০ তারিখে দিয়েছি।যার ডকেট নাম্বার ৩৫৫, ২০ আগস্ট ২০২০।আর কোনো অভিযোগ দাখিল করিনি।আমি আর কোনো অভিযোগ দাখিল করেছি যদি কেউ তা দাবী করে তবে তা মিথ্যা।

এদিকে তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় অভিযুক্ত বিপুল রঞ্জন সরকারকে বাচাতে (এটিও) শহিদুল ইসলাম সহ একাধিক হত্যা মামলার আসামীর সাথে গোপন বৈঠকের বিষয়ে নানান মহলে মুখরুচক মন্তব্য করা শুরু হয়েছে।কেউ কেউ বলছেন, বিপুল বাবু আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একই জেলার (সাবেক) বাসিন্দা হওয়ায় তদন্ত আর কি হবে?

(সি/স-২৪ আগস্ট-তা/ই)