নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে ধ্বস

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

 

দেশের ব্যস্ততম সিলেট-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের বর্ণী নামক স্থানে বাধব্লকে ধ্বস নেমেছে। এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলায় যাত্রীবাহী পরিবহনসহ পাথরবাহী ওজনের ট্রাক চলাচল করছে অহরহ। এরমধ্যেই এ মহাসড়কের বর্ণী নামক স্থানে বাধব্লকে বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে। গত দই দিনের বৃষ্টিতে রাস্তার দুই ধারে ৫/৭ ফুট মাটি ধ্বস নেমেছে। ধস ও ভাঙ্গণ ঠেকাতে ফাটলের উপরে সড়কের অংশে বালি সিমেন্টের স্তুপ করে বৃষ্টির পানি আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই মহাসড়কের ওপর দিয়ে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল করছে। শুধু বর্ণীই নয় সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে ভোলাগঞ্জের মধ্যবর্তী স্থানে অসংখ্য জায়গায় রাস্তার ইটের গাথুনি গার্ড আলাদা হয়ে পড়েছে।অনেকাংশে বাধব্লকেও ধ্বস নামার রেখা ফুটে উঠেছে।

সালুটিকর থেকে তেলিখাল পর্যন্ত মহাসড়কের দুই ধারের মাটি নরম থাকার ফলে অল্প বৃষ্টিতেই ধ্বস নামতে পারে ধারণা করা যাচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ মে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নিতকরণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল। ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ৩১ দশমিক ৭৭৬ কিমি দীর্ঘ এ সড়কটি ৩৪ মাস শেসে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে সময়ের ব্যাবধানে বেড়েছে নির্মাণ খরচ।বেড়েছে নির্মাণ সময়।চুক্তির পাচ বচ্ছর পেরিয়ে মহাসড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সারে সাতশত কোটি টাকা। মহাসড়কের নির্মাণ কাজ শেষ। চুক্তি অনুযায়ী ৩ বছরের রাস্তা দেখভাল করার দায়িত্ব স্প্রেক্টা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির। সময় যত গড়াচ্ছে মহাসড়কে যেন ধীরে ধীরে ধ্বস নামার চিত্র ফুটে উঠছে।

সড়ক উন্নয়নে সই হওয়া দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক বাঁধব্লক, ১৩ কিলোমিটার সড়ক রিজিড পেভমেন্ট, ১৭ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট, ১টি সেতু ও ২টি কালভার্ট, প্রায় ৩০ কিলোমিটার ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মাণ এবং অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করার থাকলেও মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে এখনো ফুটপাত ও ড্রেনের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য জানান, বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের বর্ণি এলাকায় ধ্বসে যাওয়া অংশ সকালে আমি পরিদর্শন করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধ্বসে যাওয়া অংশকে মেরামতের জন্য সওজ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বস্থ্য করেছে কোন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আগেই মেরামত করা হবে।

এ ব্যাপরে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের একটি অংশের ব্লক ধ্বসের সংবাদ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেছি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(সি/স-২১ জুন-তা/ই)