মাংস পায়নি তিন ইউনিয়নের নিম্নবিত্তরা

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ২:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২১

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ২১ শতাধিক কর্মহীন ও দরিদ্র পরিবারের ঈদ আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলেছে ইসলামিক রিলিফ নামের একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উন্নয়ন বিষয়ক এনজিও। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের মাল্টি সেক্টরাল ডেভলপমেন্ট’ প্রকল্প জেসিসের আওতায় ৬০টি গরু কোরবানি করে ওই কর্মহীন পরিবারগুলোর মাঝে মাংস বিতরণ করেছে।

উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে উত্তর রণিখাই, দক্ষিণ রণিখাই ও ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ২১শ অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদের দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার জনপ্রতি ২ কেজি গরুর মাংস বিতরণ করা হয়।

করোনা মহামারির কারণে ওই তিনটি ইউনিয়নে এবার ঈদুল আজহায় খুব বেশি গরু কোরবানি হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যানরা। তারা জানান, ঈদে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের মাংস পেয়ে খুশি কর্মহীন লোকজন। এজন্য তারা ইসলামিক রিলিফকে ধন্যবাদ জানান।

ঈদের দিন দুপুরে ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের তিনটি স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাংস বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ ইউনিয়নে ২০টি গরু জবাই করে ৭০০ অতি দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন পরিবারে এই মাংস বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জৈন্তাপুর ছিন্নমূল সংস্থা (জেসিস) এর এফএম শাহমুদ জাহান, প্রকল্প কর্মকর্তা তাহমিন আজিজ। ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মুসা মিয়া, সুন্দর আলী, বিল্লাল মিয়া, শেখ ফরিদ উদ্দিন, কামরুল ইসলাম ও নারী ইউপি সদস্য রহিমা বেগম এবং নুরুন্নাহার প্রমুখ।

মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির প্রচেষ্টায় উক্ত প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হয়েছে। আমাদের ইউনিয়নে মাংস বিতরণ করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

একই সাথে তাঁর ইউনিয়নে কল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

এদিকে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের মাঝে গরুর মাংস বিতরণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন। তেলিখাল ইউনিয়নের তেলিখাল গ্রামের সালেহা বেগম (ছদ্মনাম) জানান,এই বছর এক টুকরো গরুর মাংশ কেউ দেয়নি।

উপজেলার সবচেয়ে নিম্নবিত্ত মানুষের বসবাস ইছাকলস ইউনিয়নে।এই এলাকার ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র।কিন্তু এই ইউনিয়নে দরিদ্ররা ইসলামিক রিলিফের গরুর মাংস পায়নি।

উপজেলার তেলিখাল ও ইছাকলস ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষই মৎসজীবি।এছাড়াও পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের অধিকাংশই মৎসজীবি।এই সব মৎসজীবিদের কোরবানির মাংস খাওয়া যেন স্বপ্নের মতই।দিন এনে দিন খাওয়া এই পেশাজীবিদের মধ্যে কোরবানির ঈদ যেন অনেকটাই ম্লান।

(সি/স-২৩ জুলাই-তা/ই)