কোম্পানীগঞ্জে উদ্বোধনের আগেই আশ্রয় কেন্দ্রের পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে Desk Desk News প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২২ সিলকো ডেস্ক:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে নবনির্মিত একটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের (ফ্লাড শেল্টার সেন্টার) বহুতল ভবন উদ্বোধনের আগেই নিচ তলার মেঝে, ছাদ ও ভবনের সিঁড়ির পলেস্তারা হালকা চাপেই উঠে পড়ছে। প্রকৌশলীসহ জনপ্রতিনিধিরা নির্মাণকাজ শেষে ভবন পরিদর্শনকালেই এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন জানান দীঘলবাকেরপাড়-ফেদারগাঁও হাইস্কুল বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটির মেঝেতে হাঁটার সময় ফাঁকা শব্দ অনুভব করার পর বিভিন্ন স্থানে হাতের ঘষাই তা উঠতে শুরু করে। এলাকাবাসীরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করার পর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, গবাদিপশু রাখার স্থানের একটি কক্ষের পলেস্তারা এমনিতেই উঠে যাচ্ছে। পশু রাখলে তার কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়। মেঝেতে ব্যবহৃত বালুতে প্রচুর পরিমাণ মোটাদানা বালু থাকায় ও ময়লার ওপরে আস্তর দেওয়ার কারণে তা উঠে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। অবশ্য কর্তৃপক্ষ পলেস্তারা উঠে যাওয়াকে সামান্য ত্রুটি বলে দেখছেন। পলেস্তারা উঠে যাওয়ার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন লোক মেঝের গ্রাইন্ডিং হাত দিয়ে তুলে দেখাচ্ছেন। বিভিন্ন কক্ষে হাঁটার সময় লোকজন মেঝেতে ফাঁকা শব্দ অনুভব হলে পরে তা চাবি দিয়ে ঘষতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পলেস্তারা উঠে যায়। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় হাওর ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ১৭ হাজার ৪১ টাকা। উপজেলার দীঘলবাকেরপাড়-ফেদারগাঁও হাইস্কুল বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ পায় সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এমএইচটিসি-এমএকেসি (জেভি)’। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলের কথা বিবেচনা করে সেটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কেন্দ্রটির কাজ শেষ হলে মঙ্গলবার পরিদর্শন করেন উপপ্রকল্প প্রকৌশলী কামরুল আহসান, সহকারী প্রকল্প প্রকৌশলী সফিকুল আলম শাকিব প্রমুখ। পলেস্তারা উঠে পড়ার বিষয়টি ওই সময় স্থানীয়রা অবগত করলে প্রকৌশলী কামরুল আহসান জানান, বড় কাজ করতে গেলে ছোট কিছু ভুল হতে পারে। প্রকল্পটি প্রত্যন্ত এলাকার জন্য বিশাল অর্জন বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কান্তি দাশ বলেন, কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে কোনো ক্রটি পাননি। ভবনটি ঠিক আছে। উত্তর রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান বলেন, এলাকাটি বন্যাদুর্গত হিসেবে চিহ্নিত। দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে শুরুতেই কেন্দ্রের অনিয়ম ধরা পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মেঝে পুনরায় করতে হবে। সৌজন্যে: দৈনিক সমকাল SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: