দোয়ারাবাজারে অপরিকল্পিত ভরাটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলমহাল Desk Desk News প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২২ দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন অংশে চলছে এখন সুরমা নদী খনন (ড্রেজিং)। এতে সামগ্রিক উন্নতি ঘটলেও ইদানিং উপজেলা সদরে অপরিকল্পিত বিল ভরাটের কারণে মৎস্যজীবীদের ক্ষতিসাধন হচ্ছে। যত্রতত্র বিল-ঝিল ভরাটের ফলে হুমকির মুখে পড়ার সমূহ শঙ্কা রয়েছে পরিবেশের। এছাড়া গর্ত ভরাটের পর পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলা সদরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে এমন ধারণা করছেন বাসিন্দারা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি নির্ভর এবং নদী, হাওড়, বিল-ঝিল বেষ্টিত মৎস্য সম্পদে ভরপুর একটি উপজেলা। এ উপজেলার মানুষজন কৃষি আবাদের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ আহরণ করে তারা অর্থনীতির চাকা শক্ত করেন। জলমহাল ইজারা থেকে সরকারও প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব পেয়ে থাকে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নদী খনন প্রকল্পের ড্রেজিং এর বালি ও পলিমাটি ফেলে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হ্যালিপ্যাডের নিকটবর্তী বন্দেহরি গ্রুপ ফিসারির অন্তর্ভুক্ত তিনটি বিল বন্দেহরি গ্রুপ বিল, বাগাম বিল ও কালিউরি নদী। এই তিনটি বিল গ্রুপ ফিসারির নাভি হিসেবে পরিচিত। নদী খনন প্রকল্পে ড্রেজিংয়ের কারণে ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলমহালটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে লিজ প্রাপ্ত মাছিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড মাছ আহরণের পূর্বেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সমিতি কতৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ চেয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করছেন। সমিতির সভাপতি আলী আহমদ বলেন, গত অগ্রাহায়ন মাস হতে পাউবো’র তত্ত্বাবধানে সুরমা নদী খনন প্রকল্পের কাজ চলাকালে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভরাট করতে গিয়ে বিলের তীরে মাটি ফেলায় জলমহালের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়া ড্রেজিংয়ে পলিমাটি ফেলায় গ্রুপ ফিসারির অন্তর্ভুক্ত বাগাম বিল, বন্দেহরি বিল ও কালিউরি নদীর প্রায় পয়ত্রিশ দশমিক বাইশ একর ভূমির গ্রুপ ফিসারির নাভি হিসেবে পরিচিত জলমহালের মূলঅংশ এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের আশ্রয়স্থল। সম্প্রতি নদীর খননের প্রকল্পের ড্রেজিং এর বালি দিয়ে ভরাট হওয়ার ফলে মা মাছসহ ফলায়িত মাছ সুরমা নদীতে চলে যায়। এতে বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় জলমহাল ইজারাপ্রাপ্ত সমিতি। শেষ ফাইল ফিসারি হিসেবে বাগাম বিল, বন্দেহরি গ্রুপ এবং কালিউরি নদীর অন্তত পয়ত্রিশ একর ভূমিতে কোনপ্রকার মৎস্য আহরণ করতে পারিনি। ১৪২৩ থেকে ১৪২৮ বাংলা সন পর্যন্ত ছয়বছরের ইজারাপ্রাপ্ত হয়েছিল সমিতি। এতে সমিতির প্রায় চল্লিশ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পাউবো’র উপজেলা উপসহকারি প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য মহোদয়সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের পরামর্শক্রমে ট্রাম্পরোডের নিকট গর্ত ভরাট করা হয়েছ, কোনও বিল ভরাট করা হয়নি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, নদী খননের মাধ্যমে জলমহালের অন্তর্ভুক্ত বিল ভরাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তহশিলদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। SHARES গণমাধ্যম বিষয়: