ওসি নজরুল কাদলেন অন্যকেও কাদালেন

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ২:৩২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২২

 

থানায় দালালের আনাগোনা বেশ। থানায় জিডি থেকে শুরু করে মামলা রেকর্ড হতে দালালের ধারস্ত হতে হতো। থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা একটা চেয়ারে বসতে অপেক্ষামান ছিল। থানায় আগত ভুক্তভোগীরা যাতায়াতে পরিবহন সমস্যায় মশার সাথে রাত্রি যাপিত করা যেন নিত্যকার চালচিত্র। কমপ্লেক্সের আশপাশটা ঝোপঝাড় আর মশাদের দখলে ছিল। আর বৃষ্টির সময় কমপ্লেক্সের ভেতরে পা ফেলতে পিচলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। হাত বাড়ালেই মাদকের ছড়াছড়ি। কিশোর থেকে যুবক-বৃদ্ধ। সবার হাতেই মাদক ছিল। রাতের বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক যেন ডাকাতদের দখলে। ভোলাগঞ্জে সন্ধ্যা নামতেই ছিচকে চোর আর মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিনত হতো। রাতের সাদা পাথর যেন পাথর খেকুদের দখলে। উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে নিত্য নিমিত চুরি যেন প্রাত্যহিক রুটিনের অংশ।

এ সবই এখন অতিত। ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্ব্বর্তি কোম্পানীগঞ্জ থানা ও এর আশপাশের চিত্র ছিল এটি। বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ থানা এখন দালালমুক্ত। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে নির্ধারিত আসন রাখা। আগত ভুক্তভোগীরা গভীর রাতে চাইলেই নিরাপদে পুলিশের গাড়িতে চড়েও বাড়ি ফিরতে পারছে। থানা কমপ্লেক্সের আশপাশের ঝোপঝাড় গুলোর স্থানে এখন ফুলের চাষ হয়। থানা কমপ্লেক্সের ভেতরটা বড় দরদ দিয়ে সাজানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুলিশি আবাস সমস্যা সমাধানে বহুতল ভবনে রুপায়িত কোম্পানীগঞ্জ থানা। আর মাদক চোরাচালানীরাই এখন মাদকের বিরুদ্ধাচারণে ন্যস্ত। দিনের বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক থেকে রাতের বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক যেন আলোকিত। নিরাপদ। ডাকাতশূন্য সিলেট-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক। অনিরাপদ ভোলাগঞ্জবাসী যেন নিরাপত্তার চাঁদরে ঢাকা। সীমান্তের মাদকসেবী আর চোর-ছেচরারা অনেকটা চাপে পরেই সাধু হয়ে গেছে। বছর দেরেক আগেও যেখানে ভৌতিক পরিবেশ ছিল।সেখানে দেশের অন্যতম সুন্দর্যমন্ডিত পুলিশ ফাড়ি। দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক পাথরের নদী এখন বিশ্বব্যপী সাদা পাথর পর্যটন নগরে আখ্যায়িত। রাতের পাথর চুরেরা অনেকটা ভীত-সন্ত্রস্ত। উপজেলার প্রতিটি হাটবাজার সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখন সিসিটিভি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত। চাইলেই কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে পালাতে সাহস পায় না। ২০২০ এর ৩০ জুনের পর থেকে ১ বছর ৮ মাস ২৫ দিনে ধারাবাহিকতার ছোয়ায় কোম্পানীগঞ্জ থানা অনেকটা এগিয়ে গেছে। আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল জাহান কাজলের অক্লান্ত পরিশ্রমে।

গতকাল ২৪ মার্চ কোম্পানীগঞ্জ থানায় ওসি নজরুলের শেষ কর্মদিবস ছিল। যাবার ক্রান্তিলগ্নে বিদায় জানাতে আসেন কোম্পানীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাকর্মীরা,কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যরা, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন পেশাজীবিরা। বিদায়লগ্নে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজেও কাদলেন অন্যকেও কাদালেন। কেদেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা,কেদেছেন সাংবাদিকরা। কেদেছে রাজনৈতিক নেতারা। ছলছল চুখ যেনবারংবার ভিজে এসেছে পুলিশ সদস্যদের। এ যেন এক কঠিন বিদায় মুহুর্তের চিত্র।

দীর্ঘ দের বছরের অধিককাল ধরে কোম্পানীগঞ্জবাসীর সেবা শেষে বদলীজনিত পেশা পুলিশের নতুন কর্মস্থল গোয়াইনঘাট থানায় যোগদান করেছেন।

গত দের বছরের অধিককালে কোন অসহায় ব্যক্তি সাহায্যের জন্যে খালি হাতে ফিরে যায়নি ওসি নজরুলের কাছ থেকে। আগুনে পুড়া ছাই হওয়া সংসারের ত্রাতা হয়ে দাড়িয়েছেন যেভাবে,তেমনি কবর,মসজিদ,মন্দির সংস্কারে নিরবে নিভ্রতে মুক্তহস্তে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছেন।