অধ্যক্ষ নজরুলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২২ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এম সাইফুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যপক দূর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক সদস্যরা। গত বুধবার (০৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অধ্যক্ষ নজরুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্ণীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, একক স্বাক্ষরিত পরিচালিত ব্যাংক একাউন্টে কলেজের অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগকারীরা হলেন, কাঠালবাড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা জিলু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন,লাছুখাল গ্রামের নুরুল ইসলাম, কাকুরেল গ্রামের আব্দুল হামিদ, ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমান, দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের ওমর ফারুকসহ স্থানীয় অভিভাবক সদস্যরা। এম সাইফুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ্যতা না থাকা সত্তেও সিনিয়র কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে যোগদান করেন নজরুল ইসলাম। এরপর থেকে শুরু হয় তার অনিয়ম ও দূর্ণীতি। বিএনপি সরকারের সময় নিজেকে বিএনপি ঘরানার শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলেও সরকার বদলের সাথে সাথে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘা ঘেঁষে চলেন তিনি। প্রতিষ্ঠান শুরুর পর থেকেই গোপনে নিজস্ব মানুষ দিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটি গঠন করে আসছেন তিনি। সভা না করেই কখনো কখনো মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি কলেজের এডহক কমিটি থাকা সত্তেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দিয়ে গাড়ি ক্রয়ের জন্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহকালে পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং তাকে শাসায়। শুধু তাই নয় নিয়ম বহিভূর্তভাবে দীর্ঘদিন যাবত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একাউন্টে অধ্যক্ষ নজরুল তার একক স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন ও জমাদন করে আসছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে নিজ বাসায় ব্যবহার করে আসছেন তিনি। ব্যাক্তিগত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল প্রতিষ্ঠান ফান্ড থেকে প্রদান করে আসছেন । অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিগত ১৮ বছর যাবত কয়েক লক্ষ টাকা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেন। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার কারনে পল্লি বিদ্যুৎ কোম্পানীগঞ্জ থেকে তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও কলেজ ভবনে বসবাস করেও তিনি প্রতিমাসে বাসাভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা সুবিধা নিচ্ছেন। বিগত ৬ বছরের বাসাভাড়া বাবদ প্রায় ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত দুইটি ব্যাংক একাউন্টে অর্থ জমা না করে একক স্বাক্ষরে পরিচালিত একটি একাউন্টে অর্থ লেনদেন করেন। ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ফি,বেতন,সেশন ফি,পরীক্ষার ফি,উপবৃত্তি এবং প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিপরিতে শিক্ষার্থীদের বিপরীতে সরকার প্রদত্ত টিউশন ফিসহ ইত্যাদি ফি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তার একক স্বাক্ষরে পরিচালিত কৃষি ব্যাংক একাউন্টে লেনদেন করেন। যার একাউন্ট নং ৪২১। প্রতি বছর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফরম বাবদ ২০০ টাকা বিনা রশিদে সংগ্রহ করে নিজে আত্মসাৎ করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইউনিক আইডি খোলার নাম করে ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিনারশিদে জনপ্রতি ১০০ টাকা উত্তোলন এবং উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিনা রশিদে ১০০ টাকা করে উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়াও কলেজের নিজস্ব পুকুরের লীজকৃত অর্থ কলেজ তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করেন। অধ্যক্ষের জন্যে নির্ধারিত কলেজের নিজস্ব বাসায় বসবাস করেও বাসা ভাড়া উত্তোলন, প্রতিষ্ঠানের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বাসায় ব্যবহার, কলেজের বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় বাবদ ভূয়া বিল বাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মীর আল মমিন জানান, একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠান চালাবে কি করে! অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ উঠায় উপজেলার সুশীল সমাজের অনেকেই তার অপসারন চাইছে। উপজেলা যুব লীগের যুগ্ম আহবায়ক রাসেল আহমদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ না হওয়ার পেছনে অধ্যক্ষের যথেষ্ট গাফিলতি থাকতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাই এম সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবনে অধ্যক্ষ বসবাস করলেও তহবিল থেকে বাসা ভাড়ার টাকা নেওয়া যাবেনা। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া এবং বিল না দেওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ যেহেতু শিক্ষামন্ত্রণালয় বরাবর করেছেন সেক্ষেত্রে আমি কিছু বলতে পারবোনা। তবে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাকে তলব করা হয়েছে। SHARES গণমাধ্যম বিষয়: