মানবতার ফেরিওয়ালা কোম্পানীগঞ্জের জামাল উদ্দিনের অসহায়ত্বের গল্প

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২০

জহির রায়হানঃ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সদাহাস্যোজ্জল জামাল উদ্দিন কালাইরাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একজন মানবতাবাদী হিসেবে উপজেলার সবার কাছে পরিচিত।

উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বিসর্জন পরিবার”র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। বিসর্জন পরিবার সবসময় রক্তদান থেকে শুরু করে সমাজের সকল উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মকান্ডে রেখেছে ব্যাপক অবদান। কোনও মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হলে বিসর্জন পরিবার এগিয়ে আসে সবার আগে। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে জামাল উদ্দিনে ফেইসবুক অথবা মুঠোফোনের মাধ্যমে কারও রক্তের প্রয়োজনের খবর পেলে রক্ত সরবরাহ করতে ছুটে চলেন উপজেলাসহ সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তে। মানুষের রক্তের প্রয়োজনে অনুনয় বিনয় করে থাকেন অন্যজনকে।

এই পর্যন্ত শত শত রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে মানুষের মনে একটা আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন জামাল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিসর্জন পরিবার।

এছাড়াও উপজেলার প্রান্তিক মানুষসহ রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি ক্যাম্পিং এর আয়োজন করে থাকেন তিনি জামাল উদ্দিন।

দিন শেষে যখন খালি হাতে বাড়ি ফিরেন জামাল তখন তার মনে পড়ে ঘরে খাবার নেই, সন্তানরা না খেয়ে আছে! অবুঝ সম্তানরা চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে বাবার হাতের দিকে। এই বুঝি বাবা কিছু নিয়ে আসলেন। যখন দেখে বাবার হাতে কিছু নেই তখন চুপটি মেরে বসে থাকে তারা। বাবাও নিরুপায় হয়ে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে চোখের জলে বুক ভাসান।

নিজের কষ্টকে আড়াল করে হাসিমুখে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এই মানবতার ফেরিওয়ালা জামাল এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সবার প্রয়োজনে যে মানুষটি ছুটে বেড়ায় দিনের পর দিন সেই মানুষটির মাথা গোজার বসতঘর কালবৈশাখী ঝড় গুড়িয়ে দিয়েছে কয়েকবার! দেখার যেন কেউ নেই! কালবৈশাখীর উড়িয়ে নেয়া টিন আবার কোন রকম মেরামত করে সন্তানদের বুকে আগলে রেখে দিনাতিপাত করছেন তিনি।

এইরকম মানবতার ফেরিওয়ালাদের আমাদের কাছে, সমাজের কাছে কি কিছুই প্রাপ্তির নেই?

এমতাবস্থায় সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা যদি তাদের পাশে একটু এগিয়ে আসেন, তাহলে এই মানুষগুলো আরও উৎসাহ আরও উদ্দিপনা নিয়ে মানবতা বিলিয়ে যাবে আমাদের দেশ ও সমাজে।

এ বিষয়ে জামাল উদ্দিন বলেন, মানবতার কল্যাণে কাজ করা আমার নেশা আর পেশায় পরিণত হয়ে গেছে। আমি চলতে চলতে ভুলে যাই আমার পরিবার, আমার সন্তানদের কথা। মানুষের উপকারে আমার মন ভরে যায়। আর তাতে সুখ খোঁজে পাই আমি। আমার একমাত্র ভরসা আমার মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন। তিনিই আমার পরিবারকে হেফাজত করবেন। আমি যতদিন বেচে থাকবো ততদিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন অাচার্য্যের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে উনার ঘরের টিন উড়ে যাওয়ার খবর এইমাত্র জানলাম। এর আগে কেউ আমাকে বিষয়টি অবগত করেননি। উনাকে বলবেন আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য। আমি উনাকে সরকারি টিন বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করবো। প্রতিবেদক শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক গৃহহীনদের গৃহনির্মাণ প্রকল্পের কথা বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বর্তমানে গৃহনির্মাণের কোন বরাদ্দ নেই। তবে আগামীতে বরাদ্দ আসলে জামাল উদ্দিনের বিষয়টি আমি অবশ্যই দেখবো।