স্মৃতির মিনারে ফারুক চেয়ারম্যান

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

 

স্টাফ রিপোর্টার:-১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ। ভারত উপমহাদেশজুরেই ঝাঝালো মিছিল। ভারত বর্ষে গ্রাম থেকে শহড়ে ছড়িয়ে পড়েছে একটি সুর একটাই দাবী বৃটিষরা ভারত ছারো।

ভারত উপমহাদেশ যখন বৃটিষদের কাছ থেকে মুক্ত হবে-হচ্ছে ঠিক সেই সময় কোম্পানীগঞ্জের আকাশে জ্বল-জ্বল করে একটি দ্রুবতারা জ্বলার প্রহর গুনছে। তৎকালীন আসামের শ্রীহট্ট জেলার পুরাতন ভুলাগঞ্জ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন একটি শিশু। বাবা ইদ্রিস আলী মাস্টার ও মাতা নজহুত খানম কোলজোরে জন্ম নিল সেই শিশু। নাম তার ফারুক আহমদ। ভারত স্বাধীন হলো ঠিকই পাকিস্থান এবং ভারত নামে দুটি দেশ সৃষ্টি হলো।সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের নাগরিক হলো ফারুক আহমদের পরিবার।।

আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলো ফারুক আহমদ। ফারুক আহমদের বয়স যখন সবে মাত্র ১৩ তে পা রাখলো তখন তিনি ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ঠিক সেই সময় তার বাবা ইদ্রিস আলী মাস্টার আততায়ীর হাতে খুন হন। অল্প বয়সেই বিধবা হন নজহুত খানম । স্বামী মারা যাওয়ার সময় ৫ ছেলে ৩ মেয়ে রেখে যান।সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলেও ছিলোনা দায়িত্ববান কোনো অভিভাবক।সংসারের দায়িত্বভার কাধে তুলতে হয় ফারুক আহমদেরই। ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে ফারুক আহমদ ছিলো দ্বিতীয়।ছোট বড় ভাই বোনদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের কাধে সবার দায়িত্ব তুলে নিলেন।

ফারুক আহমদের বাবা ইদ্রিস আলী মাস্টার অঢেল সহায় সম্পত্তি রেখে যাওয়ায় আর্থিক কষ্ট পোহাতে হয়নি তাকে।সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া করা অবস্থায় তার বাবা মারা যাওয়ায় নিজের পড়ালেখা বন্ধ করে দিলেও অন্য ভাই বোনদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন।

একটা সময় ছাতকের উত্তরপূর্ব এই অঞ্চলটিতে শিক্ষার আলো খুবই ক্ষীন ছিলো।পেটপুরে খেতে পারাটাই যেখানে প্রধান লড়াই ছিল সেখানে ১৩ বছরের একটি কিশোর তার ভাই বোনদের মানুষ করার জন্যে শিক্ষাযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটা চাট্টিখানি কথা না।

নিজে লেখাপড়া না করে সংসারের হাল ধরলেও বড় বোন শিলং কলেজ থেকে বিএ পাশ করিয়ে বিয়ে দেন উপজেলার বুরিঢহর গ্রামের মদরিছ আলীর (উপজেলা চেয়ারম্যান) ছোট ভাই মুতাচ্ছের আহমদের কাছে।মুদাচ্ছের আহমদ নিজেও তখনকার সময়ে বিএ পাশ ছিলেন।উপজেলার যে কয়টি শিক্ষিত বনেদী পরিবার ছিল তাদের মধ্যে মুতাচ্ছের আহমদের পরিবার ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম।এছাড়া ফারুক আহমদের ছোট ভাই রফিক আহমদ (বিএ),ডাক্তার সফিক আহমদ (বিএ) এবং মাসুক আহমদকে ইন্টামেডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া করানো হয়। ছোট দুই বোন রওসন আরা বেগম বেগম ও মনোয়ারা বেগম যথাক্রমে এস এস সি এবং ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়ে বিয়ে দেন।তার আরেক ভাই অফিক আহমদ সবেমাত্র কৈশোর পেরোলেও মৃত্যুর কাছে অকালেই হার মানতে হয়েছে।মাত্র ২০ বছর বয়সে মারা যাওয়া হৃদয়ে আঘাত পান ফারুক আহমদ। দীর্ঘদিন ছোট ভাইয়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে বয়ে বেরিয়েছেন। ছোট ভাই অফিক আহমদের স্মৃতি ধরে রাখতে গিয়ে ফারুক আহমদ চালু করেন ভোলাগঞ্জ মকতব যা আজ ভোলাগন্জ আরাবিয়া হাফিজিযিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা নামে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেছে।

কিশোর বয়সে পিতাকে হারিয়ে এতিম ফারুক আহমদ ধীরে ধীরে পরিপক্ক হয়ে উঠছেন আর নিজের ব্যবসা পরিধি বাড়াতে থাকেন।সেই কিশোর ফারুক আহমদ তৎকালীন ছাতক বাজারে হয়ে উঠলেন সকল ব্যবসায়ীদের আস্থা এবং বিস্বস্থতার প্রতিক।ছাতক থানার তৎকালীন ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তরপূর্বাঞ্চলের মানুষের যে কোনো বিপদে যে যুবকটি সবার আগে ছুটে যেতেন সে হচ্ছে ভোলাগঞ্জের ফারুক।আর এই নামেই তিনি বেশ প্রসিদ্ধিলাভ করেছে ছাতক সহ সুনামগঞ্জ মহাকুমার একাংশের মানুষের কাছে।

তারিকুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক
সিলকো সংবাদ