কোম্পানীগঞ্জের ১৩৭ টি গ্রাম “আবারো” বন্যায় প্লাবিত শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০ বাণভাসীদের আর্তনাদ খাদ্য,বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন চাই। সম্পাদকীয়-ভারত উজান থেকে বয়ে আসা আকর্ষিক পাহাড়ি ঢলে থইথই করছে কোম্পানীগঞ্জের প্রধান নদী ধলাই ও পিয়াইন। এই দুই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে অতিক্রম করায় উদ্ভেগ ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে উপজেলার ৯০ ভাগ এলাকার বন্যা প্লাবিত মানুষ।এই নিয়ে দ্বিতীয় বারের মত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্লাবিত এলাকার মানুষজন।এই সব এলাকার ২ লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানি বন্দি ও অর্ধশতাধিক মাছের ঘের পানিতে ডুবে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পাড়ুয়া গ্রামের একাংশ এবং ভোলাগঞ্জ গ্রামের একাংশ ছাড়া সব কয়টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত । পূর্ব ইসলাম ইউনিয়নে দয়ার বাজার,কালিবাড়ি,কলাবাড়ি,উত্তর রাজনগর,বালুচর,উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের কালাইরাগ,মনিপুরি বস্তি,মাজের গাঁও,বরম সিদ্দিপুর গ্রামগুলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের হাত বাচতে পারলেও অত্র ইউনিয়নের সব কয়টি গ্রাম সহ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই, তেলিখাল ও ইছাকলস ইউনিয়নের শতভাগ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত। উপজেলা সদরে অবস্থিত থানা বাজার ও রাজনগর নতুন বাজারের অলিগলিতে প্রায় ৪/৬ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে।এছাড়াও উপজেলার টুকের বাজার,শাহ আরফিন বাজারের গলিতে প্রায় ২থেকে ৪ ফুট পানি অবস্থান করছে।আকর্ষিক বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখিত বাজারের সহাশ্রাধিক ব্যবসায়ী। বিগত দুই দিনের পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিস্তির্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে ২ লক্ষাধিক মানুষ অর্ধাহারে দিন কাটালেও এখন পর্যন্ত সরকারী বা বেসরকারী কোনো ধরনের ত্রাণ ও আর্থিক সহযোগীতা পায়নি গৃহবন্দি মানুষগুলো।প্লাবিত এলাকা গুলোতে খাদ্য,বিশুদ্ধ পানীয় জল,খাবার স্যালাইন ও ঔষধ সঙ্কটে থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির জোগান না থাকায় অধিকাংশ মানুষ দূষিত পানি পান করছে ফলে তারা যে কোনো সময় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলাজুরে মহামারী রুপ ধারণ করতে পারে।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে ঢালার পাড়,মোস্তফা নগর, চাঁনপুর ও উৎমা এলাকার অনেক ঘর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।এই সব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো মানবেতর দিনাকাটালেও কোনো প্রশাসনিক সহযোগীতা পায়নি।বন্যার পানিতে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত বিস্তির্ণ গোচারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সঙ্কটে আছে প্লাবিত এলাকার গবাদি পশুগুলোও। উপজেলায় একাধিক বাণভাসী জানিয়েছেন বন্যা সঙ্কট মোকাবেলা করতে খুব শিগ্রই শুষ্ক খাবার বিশুদ্ধ খাবার পানি,খাবার স্যালাইন সহ জ্বর সর্দি উপশমকারী প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী চাই। উপজেলার ১৪৮ টি গ্রামের মধ্যে প্রায় ১৩৭ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দূর্গত মানুষের জন্যে মাত্র ৩৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে।ফলে পর্যাপ্ত পরিমান আশ্রয় কেন্দের অভাবে হাজারো দূর্গত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার ঘনবসতি এলাকা টুকের গাঁও,ইসলামপুর,তৈমুর নগর গ্রামে ধলাই নদীর পানি প্রবেশ করে রাস্তাঘাট,ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অত্র এলাকার শতাধিক শ্রমজীবী পরিবারের একমাত্র শেষ আশ্রয়স্থল গৃহটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অসহায় ভাবে দিনকাটাচ্ছে । আশ্রয় কেন্দ্রের খুজে দিগিদ্ভিগ ছোটাছুটি করে বন্যার পানিকেই আশ্রয় করে নিজের ভিটেতেই আকরে ধরে বেচে আছে। অনেকে অপেক্ষাকৃত কম বন্যা কবলিত এলাকায় দূরের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবার জানিয়েছেন অত্র এলাকায় যদি একটি আশ্রয় কেন্দ্র থাকতো তবে বন্যা আক্রান্ত পরিবারগুলো প্রাণ খুজে পেতো। রুবেল নামের একজন বাণভাসী জানান,বৃহত্তর টুকের বাজারের ৫/৬ টি গ্রামের বাণভাসী মানুষের জন্যে যদি নয়া গাঙ্গের পাড় আঞ্জব কোম্পানি দারুন সুন্নাহ মাদ্রাসা ভবনটি ব্যবহার করার সুযোগ থাকতো তবে শতাধিক পরিবার বন্যার ক্ষতিগ্রস্তের হাত থেকে বেচে যেতো।এছাড়াও টুকের বাজার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিলে সেখানেও অর্ধশতাধিক পরিবার বন্যা ক্ষতিগ্রস্তের হাত সাময়িক বেচে যেতো। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন,উপজেলার ৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর টুকের বাজার এলাকার বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্যে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের বিষতে তিনি বলেন,প্রয়োজনে সেখানে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে।এ ব্যাপারে ইসলাম পুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জামাল উদ্দিন সাহেবকে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার তাগিদ দেওয়া হবে। (সি/স- ১১ জুলাই-তা/ই) SHARES সম্পাদকীয় বিষয়: