কোম্পানীগঞ্জে সংবাদিকের নামে চাঁদাবাজি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২০ স্টাফ রির্পোটার :- কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক শের তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল বুধবার এ দুটি মামলা দায়ের করেন সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সিরাজুল ইসলাম ও সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিয়া। মামলা নং ১৪ ও ১৫। শের তরিকুল ইসলাম সিলকোসংবাদ২৪ ডট কমের প্রকাশক ও সম্পাদক এবং দৈনিক নবচেতনার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে মামলা দুটিতে অভিযোগ করা হয়েছে , কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের শেরউল ইসলামের পুত্র তরিকুল ইসলাম (৩২) ও কালাইরাগ গ্রামের মৃত নূর মিয়ার পুত্র জামাল উদ্দিন (৩২) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন বিবাদী সঙ্গবদ্ধ সাইবার অপরাধী ও চাঁদাবাজ চক্রের লোক। বিবাদীরা অন্যায় লাভের আশায় এ বছরের বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে এবং ১ নং আসামি তরিকুল ইসলামের সম্পাদনায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও কথিত অনলাইন পোর্টাল ‘দৈনিক সিলকো সংবাদ ডটক’ ও তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন সময়ে ২ নং আসামি জামাল উদ্দিনসহ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সিরাজুল ইসলাম ও কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে নানারকম কুৎসা রটনা, বিরক্তিকর, অপমানজনক, আক্রমণাত্মক, ভীতিপ্রদর্শন, অপদস্ত ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এবং বিভিন্নরকম মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ সহ ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট ও মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচার অব্যাহত রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় অপরাধ সংগঠিত করেছে। গত ৭ এপ্রিল ১ নং আসামি তার ফেসবুক আইডি ও অনলাইন পোর্টাল সিলকো সংবাদ ডটকম এ ডিজিএম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার রাষ্ট্র, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সুনাম, ভাবমূর্তি, মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে ও নানারকম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ডিজিএম সিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে এর প্রতিবাদ করলে ১নং আসামি তরিকুল গত ৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় তার অফিসে গিয়ে নানারকম হুমকি দিয়ে মাসিক ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ১ নং আসামি তরিকুলকে মাসিক চাঁদা না দিলে সে নিয়মিত মিথ্যা সংবাদ পর্ব আকারে প্রকাশ করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ১২ ও ২০ এপ্রিল ১ নং আসামি তরিকুল তার ফেসবুক আইডিতে ডিজিএম এর বিরুদ্ধে মানহানিকর এবং উপজেলাব্যপী মানুষের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পোস্ট প্রদান করেছে। ফলে, ডিজিএম এর মান মর্যাদা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব অপরাধ অফিসে থাকাবস্থায় মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডিজিএমের কাছে দৃশ্যমান হয়েছে। অপরদিকে ট্রাক শ্রমিক নেতা মাহফুজ মিয়ার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিল রাত ৮টায় আসামি তরিকুল ইসলাম সোহেলের নেতৃত্বে ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামি সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের গ্রামীণ ব্যাংক ইসলামপুর শাখার সামনে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে চাঁদা উত্তোলন করেছে। তরিকুল নিজেকে বিভিন্ন সময় পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানারকম অপকর্ম করে আসছে। সে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নানাভাবে হুমকিধমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করেছে। তার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করার সাহস পেতো না। ঘটনার রাতে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে এমনকি এম্বুলেন্স চালকের কাছ থেকেও ৫০০ টাকা করে জোরপূর্বক চাদা আদায় করেছে। চাঁদা দিতে চালকরা অস্বীকার করলে আসামিদের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বাধ্য হয়ে চালকরা চাঁদা দেন। অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেরা প্রেসক্লাবের নেতারা অভিযোগ করে বলেন ডিজিএম মো. সিরাজুল ইসলাম ও শ্রমিক নেতা মাহফুজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করাই কল হয়ে দড়িয়ে তরিকুলে। তার মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে ছিলেন তরিকুল। ওসির বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও করা হচ্ছে তদন্ত। তারা দাবি করেন তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে তরিকুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষটি। তরিকুল দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন করার পর এবং আরো প্রকাশের জন্য অনুসন্ধান করছেন তখন তারা নিপীড়নমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাসহ নানারকম হয়রানির, হামলা, হুমকি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন যা অতন্ত্য দু:খ জনক। এ ব্যাপারে সংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, ওসি সজল কুমার কানু, ডিজিএম,ও শ্রমিক নেতা মাহফুজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্য মামলা করা হয়েছে । পুলিশের উদ্ধতন কতৃপক্ষ তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে মামলা তুলে এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ সজল কুমার কানুর সরকারি মোবাইল ফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ নিয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ লুৎফুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি। Download News PhotoCard SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: