ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী পরিদর্শন করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব Desk Desk News প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০ স্টাফ রিপোর্টার:-সিলেটের অর্থনৈতিকব্যাবস্থা অচল ও স্থবিরতা নিরসনে পাথর কোয়ারি খোলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শনিবার (২৯ আগস্ট) মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংষ্কার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী পরিদর্শন করে গেলেন। শনিবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটের সময় সচিব কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দরে এসে পৌঁছেন।প্রতিকূল পরিবেশে ও প্রচন্ড বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমজীবি মানুষের উপস্থিতিতে মন্ত্রী পরিষদ সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব কামাল হোসেন পাথর কোয়ারীর বিভিন্ন সমস্যাদি খুটিয়ে খুটিয়ে অবলোকন করেন। উল্লেখ্য দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় অত্র উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। অর্থাভাবে শ্রমজীবি পরিবারের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যগ্রহন চুকিয়ে ফেলেছে। হাজারো পাথর ব্যবসায়ী,অর্ধ সহশ্রাধিক স্টোন ক্রাশিং মেশিন ও পাথর পরিবহন সেক্টরে দেখা দিয়েছে মহামন্দা। ভোলাগঞ্জের উন্নত পাথর না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্টানগুলো অবকাঠামো নির্মানে নিম্নমানের পাথর ব্যাবহার করছে।ফলে সিলেটের বিভিন্ন পাথর সংশ্লিষ্ট ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দূর্বলভীতের উপর গড়ে উঠছে। এ বিষয়ে সিলেটের ঠিকাদারি সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় প্রেসব্রিফ করেছে, সিলেটের পাথর কোয়ারীগুলো খুলে দিয়ে উন্নত পাথর সরবরাহের ব্যাবস্থা করার জন্যে বার বার আকুতি জানিয়েছে আসছে। কথা হয় বৃহত্তর সিলেট পাথর ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা.আব্দুর নুরের সাথে।তিনি বলেন, মাননীয় সচিব মহোদয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে।তিনি (সচিব)মনযোগ সহকারে আমার কথা শুনেছেন।মুক্তিযোদ্ধা ডা.আব্দুর নুর আরো বলেন,দেশের অবকাঠামো নির্মাণকাজে বৃহত্তর সিলেটের পাথর দিয়ে নির্মান করা হতো।সিলেটের পাথরের মান এশিয়া মহাদেশের মধ্যে খুব উন্নত।দেশের একটি মহল নিজেদের আর্থিকলাভবান হওয়ার আসায় সিলেটের পাথর কোয়ারী বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে নিম্নমানের পাথর আমদানি করে আসছে।ফলে এই পাথর শিল্পের সাথে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ব্যাবসায়ী আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে।ব্যবসায়ীরা খেলাপী ব্যাংক লোন নিয়ে আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারীতে হাজারো কোটি ঘনফুট পাথর মজুদ থাকার পরেও বিভিন্ন রেলসড়ক ও রাস্তা মেরামত এবং নির্মাণে ইট সুড়কি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।এইসব দূর্বল ও নিম্নমানের কাঠামো নির্মাণের ফলে ঘন ঘন দূর্ঘটনার আসংকা দেখা দিয়েছে।তাই অতিসত্বর এই এঞ্চলের কোয়ারীগুলো দেওয়া হোক।কোয়ারী খোলের দেওয়ার মাধ্যমে সরকার পাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব এবং শ্রমজীবি মানুষেরা সংসার চালানোর পথ খুজে পাবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন,আমার উপজেলায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বেকার জীবনযাপন করছে। শ্রমিক বাচলে দেশ বাচবে।শ্রমিকদের ভাগ্যনিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবেনা।জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন শ্রমিক দূর্ভোগের কথা শুনেছেন ইনশাল্লাহ এই অঞ্চলের কোয়ারীগুলো খোলা হবে।আমার শ্রমিক ভাইদের ঘরে আবারো সচ্ছলতা ফিরে আসবে আমার বিস্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান,জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,সিলেট মাহবুব আলম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপমা দাশ,কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল বাছির, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি নজরুল জাহান কাজল, ওসি (তদন্ত) মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বৃহত্তর সিলেট পাথর ব্যাবসায়ী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক ডা.আব্দুর নুর শ্রমিক ইউনিয়ন কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ইসলাম পুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জামাল উদ্দিন প্রমুখ। (সি/স-২৯ আগস্ট-তা/ই) SHARES গণমাধ্যম বিষয়: