বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর আসনে লক্ষধিক শ্রমিকদের কর্মসংস্থান “বন্দী”

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

সম্পাদকীয়:-রাজ্যের মালিক আজ প্রকৃতির কাছে বড় অসহায়!

নিজ ভূমে ভূমিপুতের অসহায়ত্ব দেখার যেন কেউ নাই!

কৃষক নাশে এলো বাণের পানি শেষ বিকেলের আশ্বিনে।
সুগন্ধি ছড়াবেনা আর কৃষকের ঘরে আসছে এই নবান্নে!

কৃষকের ভাগ্য নিয়ে প্রকৃতি আজ বড়ই নিষ্টুর খেলায় মেতে উঠেছে।বর্ষায় নিয়ে গেলো পুকুরের সব প্রাণ।বাকি ছিলো আমন ধান,নিয়ে গেলো তাও আশ্বিনের অকাল প্লাবন।

আসছে পৌষে কৃষকের জমিতে সোনালী স্বপ্ন হিমেল বাতাসে নারা দেওয়ার কথা ছিলো।কৃষানির চুলোয় থাকার কথা সিদ্ধ ধানে মুড়কি।সব যেন আজ কেড়ে নিলো নিষ্টুর আশ্বিনের প্রকৃতি।

কৃষকের জন্যে অভিশাপ হয়ে এসেছে আকবরি বাংলার এই আশ্বিন মাস।অনাকাংখিত পাহাড়ি বন্যা আর অঝোর ধারার ঢলে ডুবিয়ে দিলো সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সব রোপিত আমনের মাঠ। পূনঃরায় যে আমনের চারা রোপণ করবে তাও সাধ্য নেই। সময় যে ফুরিয়ে গেছে,তাই এ বছর আর কৃষকের ঘরে নবান্নের উৎসব হচ্ছেনা।সরকারের সামান্য ত্রাণের দিকে চেয়ে থাকবে কৃষকের নোনাজল মাখা চোখজোরা। তপ্ত চির ধরা পুকুরে কোয়াসার জলে কি আর হবে! সরকার আর কি দিবে এই বুভুক্ষা সাধারণকে, হয়তো ১০ টাকা দামের চাল কেনার সুযোগ!! তাওতো টাকা দিয়ে কিনে আনতে হবে,নাকি?সেই ফুসরতও নেই।কেননা টাকা কামানোর পথটিও যে বন্ধ রয়েছে অর্ধশত মাস ধরে। বলছি পাথর কোয়ারী বন্ধ, দৈনিক রুটি রুজির পথ খোলা থাকলেও ১০ টাকা কেজীর চাল ক্রয় করে না হয় খাওয়া যেতো। টাকা আয়ের পথ বন্ধ এই অঞ্চলের কৃষক বাঁচবে কিসের উপর ভিত্তি করে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর আসনে লক্ষধিক শ্রমিকদের কর্মসংস্থান "বন্দী"

সাম্প্রতিক কালে করোনার সাথে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশ,বিগত মাস কয়েক আগেও দেশটা যেন যুদ্ধ বিদ্ধস্থ মনে হয়েছে।রাস্তাঘাট ফাকা,ব্যাংকগুলোতেও ভির ছিলো না,গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ।যেন নিজেই নিজের প্রতিশত্রু হয়েছিলো দাড়িয়েছিল সাধারণ মানুষরা।ভয়ে এবং নিজের সুস্থতায় সামাজিক দুরত্বে থাকার প্রশাসনিক চাপ ছিলো প্রতিটি নাগরিকের উপর। এখনো আছে।সমগ্র বিশ্ব করোনা পরবর্তি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ধীরে ধীরে কর্মসংস্থানের সবকয়টি দরজা ধীরে ধীরে খুলে দিচ্ছে।বাংলাদেশেও শিক্ষা প্রতিষ্টান ছাড়া সব কিছুই খুলে দিয়েছে।বিশ্ব অর্থনৈতিক ঘৌড়দৌড়ে বাংলাদেশও বসে নেই।সরকার জনগনের জন্যেই এই লড়াই করে যাচ্ছে। কিন্তু একই দেশে কি আজব নিয়ম!!

করোনা গুরুতরকালে সরকার বলেছে ঘরে থাকতে।জনগন সেটা মেনেছে বটে, কেউ অকারনে ঘরের বাইরে যায়নি।সব মিল কারখানা বন্ধ ছিলো কিন্ত শিল্পপতিদের দাবীর মুখে কিছু দিন না যেতেই খুলে দেওয়া হয়েছে সব ইন্ডাস্ট্রিপার্ক। একে একে দেশের সব ইন্ডাস্ট্রিগুলো খুলে দিলেও সরকার খুলে দেইনি শুধু সিলেটের পাথর শ্রমিকের ইন্ডাস্ট্রিগুলো। এ যেনো রুপকথার দেশের রাণীর মন জয় করতে না পারলে,জীবনের চাকা অচল!!

বিগত বছরে কোয়ারী বন্ধ থাকায় পরবর্তি সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেকার শ্রমিকদের ভিন্ন পেশায় যেতে উদ্বুদ্ধ করে কৃষি ট্রেনিং দিয়েছিলো।পাথর শ্রমিকরা ভেবেছিলো প্রতিবেলায় রুই কাতলা মাছ দাম দিয়ে ক্র‍য় করে না করে খাওয়ার চেয়ে প্রশাসনের কথামতো কৃষিতে ঝুকে দেখি সব কিছু সস্থায় উৎপাদন করা যায় কিনা!! কিন্তু বিধিবাম!!! কৃষি বিনাশী বন্যায় নিয়ে গেলো সব পুকুরের মাছ।তাতেকি সরকারী ইজারা নেওয়া জলাসার মালিকরাতো ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানি নয় এরাতো এদেশেরই জনগন,তারা না হয় এই বছর বেশ লাভবান হবে? দ্বিতীয় প্রধান আয়ের পথ রোপা আমনেও যখন বন্যা আক্রমণ পড়েছে এখন কি করবে স্থানীয় প্রশাসন?? আর কিসের ট্রেনিং দিবেন এখন???
এই অঞ্চলের মৌসুমী কৃষকরা বছরের নিদৃষ্ট সময় পাথর শ্রমের পাশাপাশি কৃষি শ্রম দিয়ে সংসারের চাহিদা মেটায়।আজ কোয়ারী বন্ধ,কৃষিতে ধ্বস নেমেছে।

তাই জনগন এখন উপুস থাকার ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেছে।এক বেলা উপুস থাকবে আর দুই বেলা আটার রুটি শুটকির ভর্তা দিয়ে খাবে। জনগন আটার রুটি খাবে সেই পরিকল্পনার কথা ফাস হওয়ার সাথে সাথে হয়তো পুজিপুতিদের নতুন ধান্ধা বেড়ে যাবে।বাজারের সব আটার বস্তা গোডাউনে পেছনে ফেলে রেখে ২৮ টাকার আটা ৪৫ টাকায় বিক্রি করার ধান্ধা শুরু করে দিয়েছে।যেমনটা ১ হাজার ৬ শত টাকার চাউলের বস্তা ২ হাজার ৫ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সেই পথেই হাটছেনাতো বাংলাদেশের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা!!!

ভুলে গেলে চলবেনা ২০ টাকার পেয়াজ এখন সেঞ্চুরি হাকাচ্ছে!! ৩৫ টাকার চাউলতো মাত্র অর্ধ সেঞ্চুরি পার করেছে,তাতে কি? কাচাবাজারেও আশ্বিনের অকাল বন্যার ধাক্কা লেগেছে ২০ টাকার মুখি ৫০ টাকা ৭০ টাকার কাচামরিচ ৩০০ টাকা। প্রতিটি তরকারী পণ্যের দাম যেন জামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতোবড় উপজেলায় এতোগুলো হাটবাজারে হাতেগুনা প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কূলকিনারা পাচ্ছেনা।সবাই না হাপিয়ে উঠলেও, মাস কয়েক পর পর যেন তাদের বাজার মনিটরিংয়ের জন্যে আসতেই হয়।

সরকারের অনেকেই হয়তো মনে করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাটি এক সময়ের বিশ্বপতিদের লন্ডন শহরের কোনো একটা অলিগলি হবে হয়তো।তাদের ধারনা এই অলিগলিতে শুধু টাকাই উরে!!আর ধারনা থাকবেই বা না কেন? এই অঞ্চলের মানুষের মুখে হা করলেই লন্ডনের চাইনিজ গন্ধ বেরোই।

কিন্তু ঘটনার ভিতরের খবর হয়তো কেউ জানেনা! কোম্পানীগঞ্জ কোনো লন্ডনী বা প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল নয়।এটা শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চল বলে হয়তো কেউ কেউ মজা করে লন্ডনি এলাকা বলেও মজা করার চেষ্টা করে।

এই অঞ্চলের কর্মসংস্থানের সমস্যা দূর করতে হয়তো বেশীদিন আর অপেক্ষা করতে হবে না।এই অঞ্চলের শ্রমিকরাই ঘরে ঘরে জন্ম দিবে সুসন্তান, যারা ইঞ্জিনিয়ার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে চাকুরী করে ঘরের চিরঅভাব দূর করতে সক্ষম হবে।কিন্তু যেই দেশের টেলিভিশনগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রচার করে,কমপ্লেন খাও ইঞ্জিনিয়ার হও।আবার সেই দেশেই উপুস থাকা শ্রমিকের ঘরে কি করে ইঞ্জিনিয়ার আসা করা যাবে???আবার অভাব ঘুচাবে!!!

পাথর শ্রমিকদের অন্য পেশায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ট্রেনিং দেওয়ার ফলাফল কি হলো তা আমরা বুজতে পেরেছি,প্রকৃতিগত কারনে সেই ট্রেনিংয়ে ধ্বস নামায় অন্য কোনো পরিকল্পনায় নতুন কোনো কর্মসংস্থানের জন্ম দেওয়ার চিন্তা মাথায় না নিয়ে সরকারের পক্ষ্য থেকে সেই শ্রমিকদের বলা উচিত ছিলো,আগামী তিন( প্রস্তবনা) বছর কোয়ারী খুলে দিলাম তুমরা এই সময়ের মধ্যে নিজেদের ঘুছিয়ে নাও।যারা বিদেশে কর্মসংস্থান গড়ার চিন্তা করছো তারা প্রস্তুতি নাও।আর আগামী তিন চার বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক কর্মসংস্থান খোলা হবে, এই সময়ের মধ্যে কারিগরি প্রশিক্ষন সহ প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নিয়ে নাও। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়া কোনো ট্র্বনিং নেওয়া সম্ভব না।আর ট্রেনিং না নিতে পারলে এই শ্রমিক অধ্যুসিত অঞ্চলে চির অভাব লেগেই থাকবে।

কবি বলেছেন “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথীবি গদ্যময়,পূর্ণিমার চাঁদ যেন জলসানো রুটি”

মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ,এই অঞ্চলের মানুষ আপনাকে অনেক ভালোবাসে তাই ক্ষুধার্ত চুখের সামনে কোয়ারীর পাথর দেখতে পেয়েও পরিবেশ রক্ষায় ক্ষুধার্ত চিত্তে সবুর নিয়ে বসে আছে।কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে।সেই মেওয়ার অপেক্ষা করতে করতে কঙ্কালসার মানুষ আজ বড়ো ক্লান্ত।একদিন আপনিই বলেছিলেন মানুষ না বাচলে পরিবেশ দিয়ে কি হবে??? আজ আপনার নিরবতায় মনে হচ্ছে, ক্ষুধার্ত মানুষের কান্না লোনাজারির চেয়েও পরিবেশের হাসিটাই যেন সর্বশ্রেষ্ট দামী।

আপনার একটা যুগপোযুগী সিদ্ধান্তের অপেক্ষামান লাখো পাথর শ্রমিক।

আজকে কোয়ারী বন্ধ, শ্রমিকদের অর্থ উপার্জন নাই।
কৃষিখাতেও ধ্বস নেমেছে,কৃষকরা ফকির হওয়ার উপক্রম। এই অঞ্চলেতো আর কোনো কর্মসংস্থান খোলা নেই,তবে কি দিয়ে মানুষ অর্থের যোগান দিবে???

মহামারী করোনা কারনে আপনার কাছে অসহায় গরীব শ্রমিকরা তাদের অভাবের কথা বলতে পারছেনা।বিগত প্রায় ১০ মাস যাবত কোম্পানীগঞ্জে না আসার কারনে সাধারণ মানুষের সাথেও আপনার সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই।গরিবরাতো আর ঢাকা যাওয়ার পয়সা নেই,যে আপনার সাথে দেখা করে মনের দুঃখ বলবে।তবে আপনার দলের নেতাকর্মীদের কাছে ভির করছে ঠিকই,সেই নেতাদের কাছে যে কোনো ক্ষমতা নেই তা সাধারণ জনগন জানে না।এই নেতাদের দিয়েও আপনার কাছে এই অসহায় মানুষের দুঃখ দূর্দশার কথা পৌছাতে ব্যার্থ হয়ে হয়তো অন্য কোনো উপায় খুজতেছে গরীব শ্রমিকরা।

আমার বিস্বাস সব উপায় আপনার কাছেই আছে।আপনি বঙ্গবন্ধু হাইটেক নির্মাণ করে এই অঞ্চলের মানুষের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করেছেন ঠিক তবে আরেকটি সঠিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় লাখো শ্রমিক পরিবার অধির অপেক্ষামান।

এই অঞ্চলের শ্রমিকদের বিস্বাস বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর এলাকার শ্রমিকরা কর্মহীন থাকবেনা।

(সি/স-১৮ অক্টোবর-তা/ই)