চাঁনপুরের ১০ পরিবার নিঃস্ব, হুমকির মুখে শতাধিক বসতঘর Desk Desk News প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২১ নিজস্ব প্রতিবেদক:-নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে আবারো উপজেলার চানপুর এলাকায় নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ১০টি বসতঘর। মঙ্গলবার (২৯ জুন) ভোরে ঢলের পানিতে চাঁনপুর গ্রামের সামসু মিয়া, ধন মিয়া, হাসু মিয়া, ছিদ্দিক মিয়া, মুরশিদ মিয়াসহ ১০টি পরিবারের ভিটেমাটি ও বাড়ি-ঘর ধলাই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ নিয়ে ৩ বছরে ভাঙনে ২৭টি পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো গ্রামের ১৯০টি পরিবার। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর আলম জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে প্রথম ভাঙন দেখা দিয়েছিল ২০১৭ সালে। ২০১৯ সালে ভাঙ্গনের চানপুর গ্রামের শাহাবুদ্দীন মিয়া, আলতু মিয়া, বিছন আলী, হোসেন মিয়া, হযরত আলী, নজরুল ইসলাম, হাসেন আলী এবং ২০২০ সালে ভাঙ্গনের নুরুল আমিন, মওলা মিয়া, আনোয়ার বেগম, এরশাদ মিয়া, ধন মিয়া, মুর্শিদ মিয়া, হোসেন মিয়া, কাশেম মিয়া, সামসু মিয়া, রইছ উল্লাহসহ সতেরটি পরিবারের ভিটেমাটি বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এই ভাঙন রোধ করতে না পারলে অচিরেই হারিয়ে যাবে চাঁনপুর গ্রামটি বিলীন হয়ে যাবে। ঝুঁকি নিয়ে ১৯০টি পরিবার বসবাস করছেন এখানে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সামসু মিয়া, ধন মিয়া, হাসু মিয়া ও আনোয়ারা বেগম জানান, নদীর ভাঙনে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এই পর্যন্ত তারা তিনবার বসতঘর নির্মাণ করতে হয়েছে।প্রতিবারই নদীভাঙ্গণের কবলে পড়েছে। তাছাড়া এই বছর ধলাই নদী প্রচুর গভীর হয়েছে যারফলে চাঁনপুর গ্রামটিকে আর রক্ষা করা গেলো না। ভাঙনের যে গতি তাতে ঝুঁকিপূর্ণ চাঁনপুর গ্রামটি ধলাই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। শুধু চাঁনপুরই নয় ধলাই নদীঘেষা বসতি গড়ে তুলা ভোলাগঞ্জ,কালাইরাগ,কালীবাড়ি,কলাবাড়ি, ঢালারপাড়,রাজনগর,শিলেরভাঙ্গা,উত্তর বুরদেও,দক্ষিণ বুড়দেও তেলিখাল,শিমুলতলা নোয়াগাও,লামাডিস্কিবাড়ি গ্রামগুলো অব্যহত ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।অতিশিগ্র নদী ভাঙ্গণ না ঠেকাতে পারলে সম্ভাবনাময় এই উপজেলাকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এই নদী ভাঙ্গন। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।যাদের ভিটে ও বসতঘর হারিয়েছে তারা চাইলে অন্যত্র দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরী করে দেব।যদি ডেউটিন চায় তাও দিতে পারবো।তবে অবশ্যই তাদের লিখিত আবেদন করতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য বলেন, ভাঙনরোধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গ্রামটিকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি পাঠিয়েছি এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি সহায়তা করা হচ্ছে। (সি/স-৩০ জুন-তা/ই) SHARES গণমাধ্যম বিষয়: