কোম্পানীগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একজন গ্রেফতার

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:-কোম্পানীগঞ্জের ঢালারপারে এক নারীকে (৩৫) ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা নারী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নিজ বাসায় ফিরে এসেছে।এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।যার মামলা নং ১১। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল।

অভিযোগ দায়েরের পরপরই মরম আলী (৪৫) নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে ঢালারপাড় গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।এজাহারভূক্ত মরম আলীকে গ্রেফতারে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল জাহান কাজলের প্রতি সন্তষ্ট প্রকাশ করেন ভিকটিমের পরিবারসহ এলাকাবাসী।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় ঢালারপার চকবাজারস্থ নিজ বাড়িতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন জৈনেক নারী। এসময় তার স্বামী ও ছেলে বাড়ির বাইরে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টায় কৌশলে ওই নারীর ঘরে ঢুকে ধর্ষণে লিপ্ত হন ঢালারপার গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মরম আলী। এ সময় ওই নারী চিৎকার করে উঠলে পুরোপুরি ধর্ষণে ব্যর্থ হন মরম। এসময় মরম আলী পালাবার চেষ্টা করলে ওই নারী তার শার্টে ধরে আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির ফলে শার্ট ছিড়ে যায়। ওই শার্ট ফেলে রেখেই পালিয়ে যান মরম আলী। এ সময় পাড়া প্রতিবেশিরা ছুটে আসলে তাদের ঘটনাটি বলেন ভুক্তভোগী নারী। কিছুক্ষণ পর একই গ্রামের আশাদুল, এরশাদসহ কয়েকজন দুই যুবক ওই নারীর বাড়িতে এসে মরম আলীর ছেড়া শার্ট ফেরত চান। ওই নারী শার্ট দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেধড়ক মারধর করে ওই যুবকেরা। গুরুতর আহত অবস্থায় শুক্রবার ওই নারীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাতে ওই নারী বাদি হয়ে কোম্পাীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ধর্ষণ ও মারধরের ফিরিস্তি তুলে ধরে ৬ আসামির নাম উল্লেখ করেন ওই নারী। অভিযোগে উল্লেখিত আসামিরা হলেন, ঢালারপার গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মরম আলী, জাহের মিয়ার ছেলে আশাদুল মিয়া, আইয়ুব আলীর ছেলে এরশাদ মিয়া, আমজাদ আলীর ছেলে নাইম আহমদ ও উমর আলী এবং মরম আলীর ছেলে মাসুক মিয়া।

এ ব্যাপারে নাইম আহমদ ও উমর আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। চক্রান্ত করে আমাদের দুই ভাইকে মামলায় ফাঁসাচ্ছে ঢালারপার গ্রামেরই একটি প্রভাবশালী চক্র। বাক্কার ফ্যামিলির ষড়যন্ত্রেই আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হচ্ছে। বালুখেকোদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাদের নাম এই মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান নাইম ও উমর।

এজাহারভূক্ত আসামীদের বিষয়ে এডভোকেট ইসরাফিল আলী বলেন, আসামীরা এলাকা উশৃংখল প্রকৃতির মানুষ। এদের বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল জানান, ভিকটিম নারী তার ছেলেকে দিয়ে একটি অভিযোগ থানায় পাঠিয়েছিল।অভিযোগ দায়েরের পরপরই এজাহারভূক্ত প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

(সি/স-১৮ জুলাই-তা/ই)