পরীমনির জামিন নামঞ্জুর

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২১

চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হওয়া মামলায় দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত।

আদালতে পরীমনির জামিনের জন্য আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ পরীমনির জামিনের বিরোধিতা করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় দুই দফা রিমান্ডে পরীমনি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য দিয়েছেন উল্লেখ করে তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা।

ওই আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ‘মামলার তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আসামি শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমনি ওরফে পরীমনিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি পলাতক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’

আজ শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে পরীমনিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে, চার দিনের রিমান্ড শেষে গত মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয় পরীমনিকে। পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৪ আগস্ট বনানীর নিজ বাসা থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে র‍্যাব। আটকের পর তাদের র‍্যাব সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। বুধবার রাতে সেখানেই থাকতে হয়। পরে বৃহস্পতিবার র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমনি ও তার সহযোগিতা বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে।

মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মাদকদ্রব্য কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। মামলায় কবিরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই। একই মামলায় আবার র‌্যাব দাবি করেছে, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন। তবে পরীমনি ও আশরাফুল ইসলামের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, র‌্যাব বাসায় মাদক পাওয়ার অভিযোগে যে মামলা করেছে, তা সঠিক নয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের যে ধারায় পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

(সি/স-১৩ আগস্ট-তা/ই)