“আমার মুক্তিযুদ্ধ ও ভোলাগঞ্জ সাব- সেক্টরের ইতিহাস” নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২২ নিজস্ব প্রতিবেদক:সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নাজিম উদ্দিন কমান্ডারের জীবনকর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের ভোলাগঞ্জ সাব-সেক্টরের ইতিহাস সম্বলিত “আমার মুক্তিযুদ্ধ ও ভোলাগঞ্জ সাব- সেক্টরের ইতিহাস” সেক্টর নং-৫, সিলেট) বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। জয়নাল আবেদীন বেগ এবং এস এম তোফায়েল আহমদের যৌথ সম্পাদনায় বইটি পাওয়া যাবে ভাষাচিত্র প্রকাশনি (স্টল নং ৩৮১-৩৮৪)। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বই মেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্রন্থ উন্মোচন মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়। যৌথ ভাবে মোড়ক উন্মোচন করেন অতিরিক্ত সচিব ও বিটাকের মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, ভোলাগঞ্জ সাব- সেক্টর কমান্ডার এন এ এম আলমগীর ও মেজর (অব.) তাহের উদ্দিন আখঞ্জী। অহিদুল ইসলাম তুষারের সভাপতিত্বে এবং মেনন চৌধুরীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন – স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. শামছুল ইসলাম , ডিএমপির অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মোঃ রহমত উল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- শাহজাহান, আজীজ, রিয়াজ উদ্দিন এমরান, সোহেল আহমদ, মাহমুদুল হাসান রনি, মাসুদ খান, জাকির হোসাইন, নিক্সন চৌধুরী, মাসুদ ভূইয়া, শিবলি, সুলতানা রাজিয়া পপি, মাহমুদা রফিক, সানজিদা কচি, আল ফাহিম,মেহেদী হাসান, আশিক মুন্সী,শাহজাদী আমেনা ভুঁইয়া, স্বপ্না খন্দকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ শাহরিয়ার, সাধারণ সম্পাদক তারেক আজিজ চৌধুরী প্রমুখ। আরও পড়ুন https://www.facebook.com/249347416010226/posts/976090280002599/ উল্লেখ্য, লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী এস এম নাজিম উদ্দিন কমান্ডার। বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিজাম কমান্ডার নামে পরিচিত ছিলেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইকোওয়ান নামক প্রথম ট্রেনিং ক্যাম্পের ১ম ব্যাচের সদস্য তিনি। ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথম যে ব্যাচটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলো সেই ব্যাচের গর্বিত সদস্য তিনি। এই ব্যাচটি যখন দেশে প্রবেশ করে তখনো দেশকে সেক্টরে ভাগ করা হয়নি। সেই হিসেবে সিলেট ৫নং সেক্টরের অধীনে প্রায় সকল সাব-সেক্টরেই ছিলো তাঁর পদচারনা। অনেক কৌশল অবলম্বন করে তিনি যুদ্ধের মাঠের খোঁজখবর নিয়ে অপারেশন চালাতেন। দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার পর তিনি নিজ এলাকা ভোলাগঞ্জ সাব সেক্টর থেকে সাব-সেক্টর কমান্ডার এন.এ.এম আলমগীর এবং মেজর (অব.) তাহের উদ্দিন আল্লী এর নেতৃত্বে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটান। অভাবী সংসারের সন্তান হয়েও সবকিছু অগ্রাহ্য করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের মাধ্যমে তিনি যেভাবে বিভিন্ন অপারেশনে সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন বইটি না পড়লে কেউ অনুধাবন করতে পারবেন না। সাহসী নেতৃত্বের জন্য আলফা (এ) কোম্পানীর কমান্ডারের দায়িত্বসহ একটি ওয়্যারল্যাস উপহার পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনে নেমে আসে কালো অধ্যায়। নিজাম কমান্ডারও রেহাই পাননি। আরও পড়ুন https://www.facebook.com/249347416010226/posts/976031280008499/ তাঁর নামে আশপাশের থানায় একাধিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চক্র। গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। এমনই লোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে সাজানো এই বইটি। এই বইটি ভোলাগঞ্জ তথা ছাতকের মুক্তিযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। কেননা এখন পর্যন্ত ভোলাগঞ্জ সাব-সেক্টর নিয়ে এই তথ্যমূলক কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। নাজিম কমান্ডারের জীবনযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা সম্বলিত “আমার মুক্তিযুদ্ধ ও ভোলাগঞ্জ সাব-সেক্টরের ইতিহাস” বইটি পাঠক পড়ে অনুধাবন করতে পারবেন বাস্তবতা, আবেগ এবং সত্যিকারের দেশপ্রেম আসলেই কতটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। SHARES গণমাধ্যম বিষয়: