দফায় দফায় বন্যার ফলে গোয়াইনঘাটে রাস্তার অবস্থা নাজেহাল

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

নোমান আহমেদ:-সিলেটে গোয়াইনঘাটে ঘন ঘন বন্যায় মানুষকে করে ফেলেছে নাজেহাল, তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ ফসলের ক্ষ্রয়ক্ষতির পাশা পাশি প্রচুর সংখক রাস্থাঘাটও ভেঙ্গে যাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ট।সামনে অগ্রাহানি ধানের বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা মহা বিপাকে পড়েছে।। এখানে প্রতি সপ্তাহান্তেই ঘুরে দাঁড়ায় বন্যা। ধ্বংশযজ্ঞের ক্ষতচিহ্ন একে দেয় সর্বত্র। দূর্গত মানুষের আর্তনাদের হাহাকার বেড়েই চলছে।

সমগ্র গোয়াইনঘাট যেন সমুদ্রে পরিনত হয়েছিল। যে দিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি ছিল । দফায় দফায় বন্যায ৩ লক্ষাধিক মানুষের জীবন দূর্ভোগে । করোনা আর বন্যার কারনে বিপর্যস্থ এখানকার জনজীবন। মধ্যবিত্ত থেকে স্বল্প আয়ের মানুষ আর দিনমজুর পরিবারগুলোর অবস্থা দিন দিন শোচনীয় আকার ধারণ করছে। সরকারের সহায়তা অব্যাহত থকলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। কর্মহীন অসহায় মানুষের পরিবার পরিজন নিয়ে নিত্যদিনের ব্যায়ভার মেটাতে না পেরে দিশেহারা হয় পড়েছেন । ২৫মে থেকে বানের পানিতে ডুবেছিল গোয়াইনঘাট। সেই থেকে বন্যার নাকানিচুবানিতে কাটছে তাদের দিন। ঘরে নেই খাবার, গো মহিষের তীব্র খাদ্য সঙ্কট, তার উপর বিভিন্ন রোগের প্রকূপ, ফসলের মাঠ পানির নীচে, বার বার ডুবছে বসত ভিটা এমন অবস্থায় মানুষ রয়েছেন কিংকর্তব্যবিমুড়।

ঢলের পানি কমলেও জন দূর্ভোগ কমছে না। গ্রামীন ও ইউপি পর্যায়ের রাস্থাঘাট এখনও নিমজ্জিত। ইউএনও এর দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা যায় ৪ হাজার ৮ শত ৫০ টি পরিবার এখনও বন্যাকবলিত প্রায় ২৫ হাজার জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্থ, ১৫হজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত রয়েছে ১৪৫ বঃ কিঃ এলাকা। তবে সঠিক ক্ষতির পরিমান পানি না কমা পর্যন্ত বলা যাবে না যাহা অপূরনীয় ক্ষতি বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন। অপর দিকে বারবারের বন্যায় কোন রাস্থারই অস্তিত্ব নেই, আছে শুধু বন্যার হিংস্র তান্ডবের ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন। এ পর্যন্ত ৮৫ কিঃমিঃ রাস্থা ভেঙ্গেছে বলে জানান তিনি যাহা মেরামতে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারী হিসাবে যে ক্ষতির বিবরন পাওয়া যাচ্ছে প্রকৃত ক্ষতি তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে বলে জনসাধারণ ধারনা করছেন। আর কৃষকদের অবস্থা যেন জীবনমৃত। ফসলশূন্য মাঠ, বীজতলা বিনষ্ট, মরছে হালের বলদ ঘরে নেই খাবার, অনিশ্চিত আগামীর ফসল। কৃষকের বুকে শুধু চেপে আছে দীর্ঘ নিঃশ্বাস। ফসলের মাঠ ভেসে উঠবে এমন লক্ষনও তারা দেখতে পাচ্ছেন না। আসছে ঈদ তাদের জন্য যেন বাড়তি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। গত ঈদ গেছে করোনার শঙ্কায় আর এই ঈদে যোগ হয়েছে বন্যার করাল ছোবল। পরিবার পরিজনের চাহিদা মেঠাতে পারছেন না। মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে শীশুদের থামানোর চেষ্টা করছেন। মানুষের হৃদয়ে হতাশার গ্লানী আর নিরব আর্তনাদ নিয়েই চলছে জীবন নামের রেল গাড়িটি। বন্যায় বিশেষ করে রাধানগর থেকে গোয়াইনঘাট ও গুরকচি থেকে বঙ্গবীর, হাদারপার থেকে লামার বাজার রাস্তার বেশি খারাপ হয়ে গেছে

(সি/স-২৮ জুলাই-তা/ই)