ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার কর্মীর বসতঘর ভাঙ্গচুর ও জমি দখল

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় এক মানবাধিকার কর্মীর বসতঘর ও সবজীর ক্ষেত বিনষ্ট করাসহ জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে পৌর শহরের ৭ নং ওয়ার্ড উত্তর গোকর্ণঘাট এলাকায় বিরামের বাড়িতে।

সূত্রে জানা যায় বিরামের বাড়ির মৃত আব্দুল মোতালেব মিয়ার পুত্র ওমর ফারুক গংয়ের মৌরসিসূত্রে প্রাপ্ত ৪৫ শতক ভুমি প্রতিপক্ষ মানিক (৪২) গং দখল নিতে দীর্ঘদিন যাবত পায়তারা করে আসছে।ব্যাবসায়ের সুবাদে ওমর ফারুক গং সিলেটে অবস্থান করায় মানিক মিয়া গং জমিটি দখল নিতে জমির মালিককে বিভিন্ন সময় মামলা হামলার ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছে।জাল দলিল তৈরী করে জমিটি দখল নিতে বিভিন্ন সময় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছে।ওমর ফারুক গংয়ের দখলে থাকা বিরোধপূর্ণ জমিটি নিয়ে জেলা আদালতে দুইটি দেওয়ানী মামলা এবং দুইটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে।এরই মধ্যে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট বেলা ১১ টা ৩০ মিনিটের সময় মানিক মিয়ার নির্দেশে কুহিনুর বেগমের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন নারী পুরুষ দেশীয় অস্ত্রসহ বিরোধপূর্ণ জমিটি দখল নিতে নির্মিত টিন সেড বসতঘর ও ফসলীয় জমিতে তান্ডব লীলা চালায় এবং বাসায় রক্ষিত বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।ক্ষয়ক্ষতিকৃত মালামালের পরিমান ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।

ভাংচুর, লুটপাট ও জমি দখলের বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ওমর ফারুক বলেন,আমার পৈতৃক সম্পত্তি এটা।এই সম্পত্তিটি মানিক মিয়া গংয়ের কাছে বিক্রি না করার কারনে তারা জোর করে দখল নিতে চাইছে।আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।পুলিশের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে বিধায় দোষীদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মনে করি।

সম্প্রিতি উক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষে মধ্যে পূনঃরায় টান টান অবস্থার সৃষ্টি হলে এবং জমি দখল ও সংঘর্ষের আসঙ্কা মনে করে ১৭ আগস্ট সোমবার রাতে তাজুল ইসলাম পিতা মৃত হাফিজ উদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করতে গেলে দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার অভিযোগকারী মহব্বত আলীকে ফিরিয়ে দেন এবং আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।এদিকে শহর পুলিশ ফাঁড়ি ২ এর দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ নুরুল আলম বিরোধপূর্ন জমির মালিকানা দাবীকরা মানিক মিয়া গংয়ের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে ঘটনাস্থল জমিতে যায়। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মানিক মিয়া গং বিরোধপূর্ণ জমিতে পুলিশের উপস্থিতি তৈরী করে জমিতে পুরোনো একটা বসতঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।এ সময় ঘরে রক্ষিত প্রায় ৭০ হাজার টাকা সমমূল্যের আসবাবপত্র ও ঘরের সামনে রোপণ করা সবজী ফসল বিনস্ট করেন । বসতঘর ভাংচুর ও সবজী ক্ষেত লুটে নেয়।

ঘর ভাংচুর,লুটপাট ও জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে এস আই নুরুল আলম প্রতিবেদকে জানান,আমি আসার পরে এই ভাংচুর করা হয়েছে।এ-ই বিষয়ে পরে কথা বলবো বলে তিনি মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে মডেল থানার ওসিকে বার বার ফোন দিলেও তিনি লাইন কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বসতঘর ভাংচুর, লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগ এনে মানবাধিকার কর্মী ওমর ফারুক বাদী হয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) ১৮ জনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে।

শেষ খবর পাওয়া আগ পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা পৌর ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কুদ্দুছ মিয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার কর্মীর বসতঘর ভাঙ্গচুর ও জমি দখল

ভাংচুরের দৃশ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার কর্মীর বসতঘর ভাঙ্গচুর ও জমি দখল

ভাংচুরের দৃশ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার কর্মীর বসতঘর ভাঙ্গচুর ও জমি দখল

লুটপাটে ব্যস্ত কুহিনূর বেগমসহ অন্যান্যরা

(সি/স-২০ আগস্ট-তা/ই)