পাঁচ খুনের দায় এড়াতে নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা Desk Desk News প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬ Oplus_131072 ডেস্ক রিপোর্ট: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে লাফ দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন। তিনি জানান, ঘটনার পর ফুরকান ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারে পদ্মা সেতুর উপর নামেন। এরপর সেখানে তার মোবাইল ও ব্যাগ রেখে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বাসের এক হেলপারের কাছ থেকে। ওই হেলপার মোবাইলটি পদ্মা সেতুর ওপর পেয়েছে বলে জানায়। মো. শরিফ উদ্দীন জানান, যে ব্যক্তি পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছে, সেটি ফুরকান কি না, তা এখনও শনাক্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে সেটি ফুরকান হতে পারে। তবে এসবের উত্তর মিলবে ফুরকানের মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ টেস্টের পর। গত ৯ মে উপজেলার রাউৎকোন এলাকায় প্রবাসী মুজিবুর মিয়ার ভাড়া বাসার নিচতলায় স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার পর পালিয়ে যান ফোরকান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহের পাশে পড়ে থাকা কিছু অভিযোগের কাগজ, চিরকুট পাওয়া যায়। পরে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের পর লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের উপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে মুখ পরিষ্কার দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ গত ১১ মে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে গণমাধ্যমকে জানান, পাঁচজনের মধ্যে চারজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এবং দেড় বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসক আরও বলেন, ‘কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে তাদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কোনও কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানার জন্য পেটের খাবারসহ অন্যান্য উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওই ল্যাবের প্রতিবেদন পেলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ SHARES গণমাধ্যম বিষয়: