একা ঘরে কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ, পিতা পলাতক শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২১ ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন পোশাক শ্রমিক তরুণী। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত বাবা। এদিকে এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মাকে তাড়িয়ে দেন বাড়ির কেয়ারটেকারসহ স্থানীয়রা। শনিবার দিবাগত রাতে আশুলিয়া থানায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এর আগে শনিবার (২২মে) আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পলাতক রসুল বিশ্বাস সাতক্ষীরা জেলার মনির বিশ্বাসের ছেলে। সে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ভুক্তভোগী তরুণী জানান, গত ২২ মে দুপুরে অফিস ছুটির পর সে বাসায় এসে বাথরুমে গোসলে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার মা কারখানায় চাকরিতে গিয়েছিলেন। আর হোটেল ব্যবসায়ী বাবা রসুল বিশ্বাস বাড়িতে একাই ছিলেন। পরে ঘরের মধ্যে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বাবা রসুল। তার কান্নার আওয়াজে প্রতিবেশী এক ভাড়াটিয়া দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলে রসুল দরজা খুলে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা তার বাবাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। এসময় তার মাকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৮-৯ বছর বয়সেও বাবা রসুল তার সঙ্গে এমন কাজ করেছিলো। এমনকি গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় থাকার সময়েও তার সঙ্গে জোরপূর্বক এমন কাজ করা হতো। মাকে জানালে উল্টো বাবা রসুল তাকেও মারধর করতো। অন্যান্য আত্মীয়স্বজনকে জানালে কেউ বিশ্বাস করেনি। আক্ষেপ করে ভুক্তভোগী জানান, এ ধরনের কাজ যেন আর কোনো মেয়ের সঙ্গে না হয়। এমন বাবা যেন আর কারো ঘরে জন্ম না নেয়। এ ঘটনায় বাবা রসুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। বাড়ির কেয়ারটেকার মো. সোহাগ বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর হোটেলে রসুলকে ডেকে পাঠানো হলে সে পালিয়ে গেছে বলে জানতে পারি। পরে স্থানীয়রা মিলে মেয়ের মাকেও তাড়িয়ে দেয়। আর মহিলা মেম্বারের কাছে গিয়েও বিষয়টা জানিয়েছি। কিন্তু তখন মেয়েটাকে মেম্বর নিয়ে যেতে বললে মেয়ে আর যায় নাই।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘গতকাল রাতে ভুক্তভোগী তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে অভিযোগটি রাতেই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। আজ সকালে ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ (সি/স-৩০ মে-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: