সুনামগঞ্জে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাস দিলেন প্রেমিক Desk Desk News প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১ সুনামগঞ্জে প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কল চালু রেখে জুবায়ের আহমেদ জনি (২২) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জনির বাবা মামলা করেছেন। নিহতের পিতা ব্যবসায়ী ছয়ফুল্লা জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে শহরের আফতাব নগরের এক তরুণীর সঙ্গে দেখা হয় তার ছেলের। এরপর দুই এক দিন ফোনে কথা হয় তাদের। কয়েক দিনের মধ্যেই ছেলে জুবায়েরকে কিছু কথা আছে বলে বাসায় ডাকে ওই তরুণী। জুবায়ের ওই বাড়িতে গেলে আগে থেকে ফাঁদ পেতে রাখা গোয়াল ঘরে জুবায়েরসহ ঢুকে যায় তরুণী। এদিকে তারা গোয়াল ঘরে ঢুকতেই তরুণীর বন্ধু ফরহাদসহ অন্যরা বাইরের দিকে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর তারা নিহত জুবায়েরকে অমানবিক নির্যাতন করে। পরদিন থানায় ধর্ষণ মামলা (নম্বর ২৯) দায়ের করে। এই মামলায় পুলিশ জুবায়েরকে গ্রেপ্তার করে। জুবায়েরকে গ্রেপ্তারের পর তরুণীর বন্ধুরা তাঁকে জানায় ১০ লাখ টাকা দিলে ওই তরুণী আপোস করবে এবং তার একমাত্র সন্তান জুবায়ের মুক্তি পাবে। পরে ছয়ফুল্লা একমাত্র সন্তানকে মামলা থেকে মুক্তি দিতে স্থানীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে মেয়েটিকে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ তুলে দেন। স্থানীয় কাউন্সিলরসহ কয়েকজন গণ্যমান্যের উপস্থিতিতে টাকা দিয়ে আপোস করার পর জুবায়ের জেল থেকে বের হয়। তবে এ ঘটনায় জুবায়ের অপমানিত বোধ করে। মানসিকভাবে অসুস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু ওই তরুণী তার পিছু ছাড়েনি। নানা ফোন থেকে ছেলেটিকে হুমকি ধামকি এবং বিয়ের জন্য চাপ দিতো সে। মেয়েটির চাপে সব সময় ভয়ে থাকতো জুবায়ের। পিতা ছয়ফুল্লা আরও জানান, বুধবার রাতে তিনি এবং তার ছেলে এক সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোর ৫ টা ৪৮ মিনিটে স্ত্রী আজিজুন নেছার মোবাইল ফোনে ওই তরুণী কল দিয়ে জানায়, জুবায়েরের কক্ষে তাড়াতাড়ি যেতে। পরে তার স্ত্রী ওই কক্ষে গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতে পান ছেলের লাশ ফ্যানে ঝুলছে। তিনি বলেন, ‘ওই সময় ছেলের ম্যাসেঞ্জার অন করা ছিল এবং ভিডিও কলে তার মৃত্যু দেখিয়েছে ওই তরুণিকে। আমি এই ঘটনার বিবরণ ও টাকা লেনদেনের ভিডিওসহ ছেলের মোবাইল ফোনের সিম এবং আমার স্ত্রীর ফোনের সিম আদালতের কাছে উপস্থাপন করে প্রতিকার চেয়ে সোমবার দরখাস্ত করি। আদালত দরখাস্ত গ্রহণ করে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে মামলা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।’ জুবায়েরের মা আজিজুন নেছা বলেন, ‘ফজরের নামাজ পড়তে ঘুম থেকে ওঠা মাত্র আমার মোবাইলে একটি মেয়ের ফোন আসে, সে বলে আমার ছেলে মারা গেছে। তাড়াতাড়ি রুমে যেতে। রুমে গিয়ে দেখি আমার ছেলে সত্যি সত্যি সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। এরপর আমি চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’ স্থানীয় কাউন্সিলর পেয়ারা বেগম বলেন, ‘মেয়েটি দরিদ্র হওয়ায় পাশে দাঁড়িছিলাম। কিন্তু পরে আমার সন্দেহ হয়। ধর্ষণ মামলা করে টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেবার পর আমার খারাপ লেগেছে। ছেলেটি মারা যাবার কয়েক দিন আগে আমার কাছে এসে বলেছিল, মেয়েটি তাকে নানাভাবে বিরক্ত করছে, ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। আমি বিষয়টি দেখব বলে তাকে আশা দিয়েছিলাম।’ এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণিসহ ছয়ফুল্লার মামলার দায়ের করা অন্য আসামিরা হলেন ওই তরুণির বাবা, নাছির মিয়া, শহীদ মিয়া, লুৎফুর মিয়া, আতাউর মিয়া, ফজরুননেছা ও নাঈম মেহেদী ফাহাদ। অভিযুক্ত তরুণী ও তার বাবার ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বললেন, ‘আদালতের নির্দেশে জুবায়ের আহমদ জনির বাবা ব্যবসায়ী ছয়ফুল্লার মামলা মঙ্গলবার রাতেই গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে মঙ্গলবার রাত থেকেই অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’ (সি/স-১৭ জুন-তা/ই) SHARES গণমাধ্যম বিষয়: