সিলেটে গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে ফেসে গেলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের স্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১

 

সিলেটে গৃহকর্মী রুনা আক্তার নামের এক কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেনের স্ত্রী ফারহানা চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি পূবালী ব্যাংক কদমতলী শাখার একজন কর্মকর্তা।

 

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে সিলেট নগরীর উপশহর ই-ব্লকের ১ নং সড়কের ১১ নং ফিরোজা মঞ্জিল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটকের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরাণ (র.) থানার এসি রুপক কুমার শাহা।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে আটক করে আমাদের হেফাজতে নিয়ে যাচ্ছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী সাইফুর রহমা নয়া শতাব্দীকে বলেন, ফিরোজা মঞ্জিলের ৪র্থ তলায় থাকেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক। বিকালে তার স্ত্রী গৃহকর্মীকে মারধর করেন। এসময় বাসার নিচ থেকে তার ব্যাপক চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনা যায়। তখন পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

এদিকে সরেজমিনে ফিরোজা মঞ্জিল নামক ওই বাসার ৪র্থ তলায় প্রবেশ করে দেখা যায় বাসার ভিতর বেশ কিছু জায়গায় মরিচের গুড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা। এমনকি গৃহকর্মী রুনা আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত মাসে আমি এসেছি। প্রথমে আমাকে কোন মারধর করা হয়নি। কিন্তু কিছুদিন গেলে আমি আমার বাড়িতে ফোন করতে চাইলেও দেওয়া হতো না। ফোন করতে চাইলেই আমাকে মারধর করা হয়। আজ আমি আমার বাড়িতে ফোন দিতে চাইলে আন্টি আমাকে মারধর করেন। তখন আমি কান্না শুরু করলে তিনি আমার মাথার উপর মরিচের গুড়া ঢেলে দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাথরুমে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করেছে।’

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার গৃহকর্তী ফারহানা হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সে গত মাসের ২২ তারিখ আমার বাসায় কাজে আসে। আসার পর থেকে চলে যেতে কান্নাকাটি শুরু করেছে। কিন্তু আমার বাসায় কাজে মেয়ে না থাকায় তাকে বলি আপাতত থাকতে। কিন্তু কয়েকদিন পর থেকে সে তার সাথে জিন ভুতের সমস্যা আছে এবং দিনে তার সমস্যা হয় বলে জানায়। আজও সে এরকম করে এবং আমার বাচ্চাকে মারধর করে বাথরুমে প্রবেশ করে। সে নিজে চিৎকার চেঁচামেচি করেছে। আর বাহির থেকে তাকে বাথরুম থেকে বের করতে আমি চেঁচামেচি করেছি। তাই সবাই মনে করছেন মারামারি করেছি।

এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালে আহমদ সেলিম সাংবাদিকদের জানান, আমি ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সহযোগিতায় ওই মেয়েকে বাথরুম থেকে উদ্ধার করি।

(সি/স-২৩ জুন-তা/ই)