হোটেলে কিশোরী ধর্ষণ,ধর্ষক গ্রেফতার শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২১ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার রওনক আবাসিক হোটেলে কথিত প্রেমিক মো. শরীফুল ইসলাম নূরের হাতে এক কিশোরী (১৬) ধর্ষিত হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রেমিক ও হোটেল ম্যানেজারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল (২৭ জুন) রাতে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুইজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় সোনাইমুড়ীর একটি হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগী কিশোরীকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- পার্শ্ববর্তী চাটখিল উপজেলার ৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া রমজান আলী মিজি বাড়ির আলী আকবরের ছেলে মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম নূর (২৬) এবং সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ভানুয়াই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে হোটেল ম্যানেজার ও শরীফের বন্ধু দীন মোহাম্মদ জনি (৩২)। মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী (১৬) নোয়াখালী চাটখিল উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। কথিত প্রেমিক মো.শরিফুল ইসলাম নূর (২৬) কিছু দিন যাবত ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। ওই ছাত্রী তার পরিবারের সদস্যদের জানালে পরিবারের লোকজন আসামিকে সতর্ক করে। এরপর সে গতকাল রোববার সকাল ৯ টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে চাটখিলের একটি স্কুলে এসে এসাইনমেন্ট জমা দিয়ে আবার বাড়ি ফেরার পথে আসামি তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চাটখিল পৌরসভাধীন উপজেলা গেইটের সামনে নিয়ে আসে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীফ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সোনাইমুড়ী থানাধীন রওনক আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসে। আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার ২নং আসামী দ্বীন মোহাম্মদ জনির সহায়তায় হোটেলের ৫ম তলার ৫০৬ নং কক্ষের ভেতরে নিয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে শরীফ। ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর যৌনাঙ্গ ফেটে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এরপর হোটেল ম্যানেজার দ্বীন মোহাম্মদ ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগীতায় শরীফ তাকে দুপুর দেড়টার দিকে সোনাইমুড়ীর আল খিদমাহ জরুরী সেবা ও নরমাল ডেলিভারী হাসপাতালে ভর্তি করে। ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পেয়ে আল খিদমাহ জরুরী সেবা ও নরমাল ডেলিভারী হাসপাতালে এসে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পায়। আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ কথিত প্রেমিক ও হোটেল ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ওই মালায় বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। (সি/স-২৮ জুন-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: