ছাতক পিডিবি কার্যালয়ে ৩ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মিটার চুরিসহ দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারি প্রমাণিত শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ আব্দুস ছালাম শাকিল ছাতক থেকে:- ছাতক উপজেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন সরদার, প্রকৌশলী মামুদুর হাসান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন-সহ ৩জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রিপ্রেইড মিটার চুরি, দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। সরকারি বরাদ্দকৃত ফ্রি মিটার টাকা ছাড়া গ্রাহকরা পাচ্ছেন না, পুরাতন এলটি লাইন সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গত মঙ্গলবার সকালে সিলেট থেকে একটি টিম ছাতক বিদ্যুৎ অফিসে আসেন। ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী ও বিভিন্নজনের বক্তব্য শ্রবণসহ সার্বিক বিষয় তদন্ত করে এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন মর্মে জানা গেছে। সিলেটের বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের চীফ প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের, আব্দুল রাজ্জাকের নেতৃত্বে সোমবার সকালে ছাতক পিডিবি নির্বাহী প্রকৌশলীর রুমে উপস্থিত হন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এরপর অফিসিয়ালি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। এর আগে গত সপ্তাহেও একটি টিম একই অভিযোগের বিভিন্ন বিষয়াদি তদন্ত করেন। কিন্তু সেই তদন্তে অনেকটা নাখোশ ছিলেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীরা। তদন্ত দল সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে রাত ১১টার দিকে ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী মামুদুর হাসান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন কাগজপত্র ছাড়াই স্টোর রুম থেকে ৪২টি সরকারি মিটার চুরি করে নেয়ার সময় লাইনম্যান মঞ্জুর আলমের হাতে ধরা পড়েন। কার্যালয়ের স্টোর রুম থেকে প্রকৌশলী মামুদুর হাসান মৌখিক নির্দেশে উপ সহকারি প্রকৌশলী আবুল হোসেন মিটারগুলো নিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রহরীকে জানানো হয়। কিন্তু প্রহরী শোর চিৎকারে অফিসের অন্যান্যরা এগিয়ে আসেন এবং মিটারসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ওই বিষয়টি অফিস জুড়ে জানাজানি হলে ৪২টি মিটার অফিসের প্রকৌশলী মামুদুর হাসানের কক্ষে রাখা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। এ ঘটনায় লাইনম্যান মঞ্জুর মিয়া বাদী হয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চীফ প্রকৌশলী, প্রশাসন বিভাগীয় প্রকৌশলী, ছাতক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়র বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সিলেটের বিভাগীয় চীফ প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের ও আব্দুর রাজ্জাকসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি টিমের নেতৃত্বে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির রহস্য বেরিয়ে আসে। প্রমাণিত হয় সব অভিযোগ। অভিযোগকারী লাইনম্যান মঞ্জুর তার বক্তব্য তদন্ত দলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি মিটার চুরি, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ প্রিপ্রেইড মিটার লক করে লাখ লাখ টাকা এবং বকেয়া বিলের নামে জরিমানার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষদ বিবরণ উপস্থাপন করেন। এদিকে, অভিযোগ করার পর থেকেই এক অজানা আতঙ্কে রয়েছেন লাইনম্যান মঞ্জুর। তিনি জান-মালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে তদন্ত দলের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তার বিবরণে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত টিম তাকে ছাতক থেকে বদলী করে সিলেট কার্যালয়ে স্থানান্তর করেন। এব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির এক সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কিত বেশকিছু তথ্য উপাত্ত পেয়েছি। এগুলো আরও যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত কাজ শেষ হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (সি/স-০৯ সেপ্টেম্বর-তা/ই) SHARES অপরাধ বিষয়: