কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রচারণায় আবারো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হামলা

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:-আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর উপর প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকের হামলা যেন থামছেনা। গত ২৭ অক্টোবর উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামীলীগের নৌকার মাঝি ফয়জুর রহমান মাষ্টারের নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরিদ উদ্দিনের সমর্থকেরা হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেই হামলায় সালাহ উদ্দিন (২৬) নামের এক সমর্থক আহত হয়েছে। বিজয় পাড়ুয়া গ্রামের আসদ্দর আলীর ছেলে সালাহ উদ্দিনের মাথায় পাথরের আঘাতে পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে নিজ বাড়িতে রয়েছে।

সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো হামলার শিকান হোন নৌকা প্রতিকের প্রচারণা শিবির।উপজেলায় পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আওয়ামীলীগের নৌকার মাঝি মুল্লুক হোসনের নির্বাচনী প্রচারে উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর আলম এবং তার সমর্থকেরা হামলা করেছে বলে আট জনকে আসামী করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন মুল্লুক হোসেন।
সোমবার (১ নভেম্বর) বিকালে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুল্লুক হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা নৌকার প্রচারণায় স্থানীয় খায়েরগাওঁ গ্রামে গেলে বিএনপি নেতা আলমগীর আলম ও সমর্থকেরা বাঁধা সৃষ্টি করে। খায়েরগাওঁ গ্রামটি আলমগীর আলমের নিজ গ্রাম হওয়াতে সে তার দলবল সহকারে ঐগ্রামে আমার প্রচারণা (মাইকিং) না করতে হুমকি দেয়। তার বাঁধা উপেক্ষা করে প্রচারণা (মাইকিং) করায় সেই ক্ষিপ্ত হয়ে প্রচার কাজে ব্যবহারিত একটি সিএনজি ও ৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করে।
এ ঘটনায় সোমবার (৩১ অক্টোবর) রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর আলম সহ আট জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং ১২০/১৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মুল্লুক হোসেন মামলা দায়ের করেন।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানাযায় ঘটনার দিন আওয়ামীলীগের সমর্থিত নৌকার প্রার্থীর প্রচারণার জন্য একটি সিএনজি যোগে দু’টি মাইক সহ কারে ৫ জন সমর্থক খায়েরগাওঁ গ্রামে যায়। বিকাল বেলা হঠাৎ আলমগীর আলম ও তার সমর্থকেরা প্রচারণা চালানো নিঃশেষ করে দেন। তাদের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রচারণা চালানো হলে একটি সিএনজি ও দু’টি মাইক ভাঙচুর করে সিএনজিতে থাকা দুই শতাধিক বড় পোস্টার ও পাচঁ শতাধিক লিফলেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। নৌকা মার্কার প্রচারণার কাজে থাকা কয়েক জন সমর্থক-কে মারধোর করা হয়েছে বলে উল্লেখ্য করা হয়।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ফয়েজ আহমেদ জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে। ওই বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তদন্ত চলছে।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর আলম ওই ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবী করে বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় হিংসান্ত হয়ে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজেরই এসব ঘটনা ঘটিয়ে আমার উপর দায় দিতে যাচ্ছে।
(সি/স-০১ অক্টোবর-তা/ই)