কোম্পানীগঞ্জে সালিশে হামলার পাঁচ দিনেও মামলা রেকর্ড হয়নি শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২২ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পুরোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশে উপস্থিত চেয়ারম্যান ও মেম্বার পক্ষের মধ্যকার হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার ১৯ মার্চ দুপুর ১২ টায় উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের বাগজুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই পক্ষের লোকজনই আহত হয়। চেয়ারম্যান পক্ষে ইছাকলস ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান সাজু মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হোন। অপর পক্ষে ইন্তাজ আলীর বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাত ও খলিলুর রহমানের পায়ে ধারালো দায়ের কোপে ঘোরতর জখম হয়। এ ঘটনায় আহত সাজ্জাদুর রহমানের ভাই সাইফুর রহমান বাদী হয়ে ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য সাইদুর রহমান সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলেও কোন এক অদৃশ্য কারনে অপর পক্ষের মামলাটি রের্কড করছেনা পুলিশ। আহত ইন্তাজ আলী জানান, প্রভাবশালীদের চাপে আমাদের মামলাটি রের্কড করছেনা থানা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন হোল্ডি ট্যাক্স আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর একটি দরখাস্ত করেন সাইদুর রহমান সহ ৮ ইউপি সদস্য। অভিযোগ দায়ের করাকে কেন্দ্র করে সালিশে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতান্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার দিন আহত সাজ্জাদুর রহমান সাজু প্রতিবেদককে জানান, মেম্বার সহ ৮/১০ জন হামলাকারী তার উপর অতর্কিত হামলা করেন। তিনি আরও জানান, তার হাতে থাকা একটি মূল্যবান আইফোন,মানিব্যাগ, ব্যাগে রক্ষিত দেড় লক্ষ টাকা ও তিনটি লিখিত স্ট্যাম্প সহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় সাইদুর রহমান। তবে আহত সাজ্জাদুর রহমানের বক্তব্যের সাথে মামলার এজাহারে ও ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যাক্তিদের বক্তব্যে কিছুটা অমিল পাওয়া যায়। মামলার এজাহারে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনার দিন সাজ্জাদুর রহমান তার বক্তব্যে প্রতিবেদককে বলেন, আমার কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে মামলার এজাহারে ১ লক্ষ ৭ হাজার ৫ শত টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এছারাও ঘটনার দিন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল প্রতিবেদককে জানিয়েছেন টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে রেকর্ডকৃত মামলার এজাহারে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ আছে। ঘটনার সময় উপস্থিত বাগজুর গ্রামের মুরব্বি উস্তার আলী জানান, ঘটনার অনেক পরে সাজ্জাদ চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বলেন, তার দের লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার দৃশ্য নিজ চুখে দেখেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমি সালিশে উপস্থিত ছিলাম ঠিক, তবে কাউকে টাকা ছিনিয়ে নিতে দেখিনি। সালিসে উপস্থিত কয়েকজন ব্যাক্তি জানান মারামারি হয়েছে ঠিক তবে মোবাইল কিংবা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এগুলো মিথ্যা বানোয়াট তথ্য। আহত খলিলুর রহমান বলেন, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আবারো হামলার আসঙ্কায় আছি। তাদের ভয়ে পরিবার সহ পাঁচ দিন যাবত এলাকা ছাড়া। সাইদুর রহমান মেম্বার বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স আত্মসাৎ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করায় সালিশে আমাকে সহ সব মেম্বারকে চোর ডাকাত সম্বোদন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছিল সাজ্জাদ চেয়ারম্যান। আমি প্রতিবাদ করায় হত্যার উদ্দেশ্যে আমার উপর হামলা হয়। আমাকে বাচাতে এলে দুইজন ঘোরতর আহত হোন। কোম্পানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও মামলাটি রের্কড করতে গড়িমসি করছে পুলিশ। তিনি আরও জানান শুনেছি আমাদের মামলাটি রের্কড না করতে প্রভাবশালী এক নেতা আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছেন। মাথায় জখমের পরিমান জানতে চাইলে সাজ্জাদুর রহমান সাজু প্রতিবেদককে জানান, মাথায় ছুরিকাঘাতের ফলে ৮/১০ টি সেলাই লেগেছে। মামলার এজাহারে ২৫/২৬টি সেলায় উল্লেখ করা আছে কিন্তু বাস্তবে জখমের পরিমান ভিন্ন। ঘটনার দিন সাইদুর রহমান পক্ষ আইফোন এবং দেড় লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে কিন্ত মামলার এজাহারে আইফোন ও দেড় লক্ষ টাকা উল্লেখ নেই কেন? জানতে চাইলে তিনি অসুস্থ আছেন বলে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন। অপর পক্ষের মামলা রের্কড না করার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল বলেন, তাদের অভিযোগটি তদন্তাদিন। মামলা রের্কড না করার পেছনে কোন ব্যাক্তি কলকাঠি নাড়ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদেরকে (সাইদুর পক্ষ) বলেন। আমি জানি না। SHARES গণমাধ্যম বিষয়: