পাহাড়ি বর্ষণে কোম্পানীগঞ্জে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২২

 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টানা বর্ষণে ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি হাওরের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চল। বেশকিছু গ্রামের নিচু স্থানের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে ও বাড়িঘর পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি ফসল রক্ষা বাঁধ।
রবিবার সারাদিন অল্প অল্প ও সোমবার ভোরে উজান থেকে আসা অব্যাহত পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর, ইসলামপুর পশ্চিম, তেলিখাল, ইছাকলস, উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন ও দক্ষিণ রনিখাই চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার উঠতি আধাপাকা ও কাঁচা বোরো,সরিষা, আলু, বাদাম, শাক সবজির ফসিল জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলার পূর্ব ইসলামপুরের চানপুর গ্রামের কৃষক গনি মিয়া অসহায় কণ্ঠে দৈনিক জৈন্তা বার্তাকে বলেন, আমি পাঁচ একর জায়গায় বিভিন্ন ফসল যেমন বাদাম, আলু ও দেড়শ আবাদ করি। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে সব তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।

পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর আলম জানান, আমার ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসলের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। চানঁপুর-খায়েরগাওঁ গ্রামের রাস্তায় সকালে ভাঙ্গন দেখা দিলে স্থানীয়দের নিয়ে আমি নিজে মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়েও রক্ষা করতে পারি নাই। দুপুর ১২টার দিকে পাহাড়ি ঢলে এই রাস্তাটি ভেঙে যায়।

ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াদ আলী বলেন, সেহরি ও নামাজের পরে জানতে পারলাম আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তখন স্থানীয় যুবক ও কৃষকদের নিয়ে ফসল রাক্ষায় কাজ শুরু করি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সকাল থেকে বিকাল ৫টায় পর্যন্ত অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত থেকে কাঁঠালবাড়ি-লম্বাকান্দি সাতবিলা হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। আজও কয়েকটি বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছি। এখনও বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণে আছে, আশাকরি আগামীকাল থেকে পানি কমে যাবে।