কোম্পানীগঞ্জে কোয়ারী বন্ধ,ব্যাবসায়ীদের ৩ শত কোটি টাকার ক্ষ্রয়ক্ষতি

Desk Desk

News

প্রকাশিত: ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০
কোম্পানীগঞ্জে কোয়ারী বন্ধ,ব্যাবসায়ীদের ৩ শত কোটি টাকার ক্ষ্রয়ক্ষতি

ফাইল ফুটেজ

সিলকো সংবাদঃ-পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নজরে আসে ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তোলনে যত্রতত্র খননযন্ত্রের ব্যাবহার। পরিবেশ ধংস হচ্ছে এই মর্মে উচ্চ আদালতের নির্দেশে
সিলেটের বৃহত্তম পাথর খনি ভোলাগঞ্জ ও ছোট বড় আরো দুইটি কোয়ারী অনিদৃষ্ট কালের জন্যে বন্ধ হয়ে যায়। কোয়ারী বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে নিরব হতে থাকে উপজেলার প্রতিটি বাজার। সবকয়টি ব্যাংকের লেনদেনেও ভাটা পড়ছে ।কোয়ারী বন্ধ হওয়ায় এর প্রভাব পরেছে উপজেলার প্রতিটি ব্যাবসায় প্রতিষ্টান,যাত্রী পরিবহন,ফুটপাত সহ ছোট বড় সব ধরনের ব্যাবসায় প্রতিষ্টানেই।
ভোলাগঞ্জের মাছের বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২০/২৫ জন মাছ ব্যাবসায়ী বসে আছে আর মাছি তারাচ্ছে।শাহ আলম নামের একজন মাছ ব্যাবসায়ী জানান,দুপুরকো বেলাত মাছ লইয়া বাজারো আইলাম, এখন বেইল বাজে ৫ টা এখনো বিকি অইছইন না। হাইঞ্জা বাদে অও মাছ ফালাইয়া যাওয়া লাখবো।অও মাছ বেছিয়া ফুয়াইনতর পড়ার যুগান দেওয়া লাগে,খাওনো লাগে।কোয়ারী বন্ধ অইছেপর থাকি মাছ বিকি কম,বাজারো কাস্টমার নাই।আমরা কিতা না খাইয়া মরতাম নি অখন।কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতা অখলে খইছলা নৌকাত ভোট দিলে কোয়ারী খুলব।লাভ কিতা অইল অখন।বাইরের মাইনসে আমুদ ফুর্তির লাগি আমরার পেটো লাত্তি মারছইন আমরার এমপি।এমপি সাব আইয়া দেখুক্কা আমরা কত সুন্দর পরিবেশ লইয়া বাচ্চা আছি।দেশটার মাঝে একটা আখাল পড়ছে লাগের।চাইরমোকা অভাব আর অভাবের সুর উটি গেছে।

উপজেলার টুকের বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেলো-কয়েক ডজন সিএনজি অনেকক্ষন যাবত প্যাসেঞ্জারের আসায় ঠায় দারিয়ে আছে,কিন্তু প্যাসেঞ্জার নেই।ফারুক নামে একজন ড্রাইভার জানান-বিগত ১৫ বছরের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ এত মন্দাভাব কখনো দেখিনি আমরা। বছরের বেশিরভাগ সময় উপজেলার কোন না কোন কোয়ারী চলত।কিন্তু এইরকম অভাব কখনো দেখিনি আমরা।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে রয়েছে ৩টি পাথর কোয়ারী (ভোলাগঞ্জ, শাহ আরফিন ও উৎমা)। সবগুলো পাথর কোয়ারী বর্তমানে বন্ধ থাকায় বাজারের প্রতিটি ব্যাবসায়ীদের মুখে শুধু একটাই সুর কোয়ারী না খুলে দিলে আমাদের ব্যাবসায়ের ক্ষতি কি সরকার পুশিয়ে দিবে?

বাংলাদেশের বৃহত্তম ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীর বিগত প্রায় ৬ বছর থেকে বন্ধ রয়েছে । এক সময় এই ভোলাগঞ্জ কোয়ারীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার শ্রমিক কাজ করতে দেখা যেতো।সেই সাথে পাথর ভাঙ্গার মেশিনগুলোতেও কাজ করতো হাজারো শ্রমিক।কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় এই সব ক্রাশার মেশিন এলাকায় পাথর না থাকায় শ্রমিক শূন্য হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি বিগত দুই মাসে ভোলাগঞ্জ কালাইরাগ কোয়ারী এলাকায় ৫০/৬০ টি কোয়ারী গর্ত খোড়া হয়।প্রতিটি কোয়ারীতে ৩০/৩৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছে গর্ত মালিকরা। শ্রমিকদের এক মাসের বেতন ভাতা অগ্রিম দিয়ে কাজে নামানো হয়েছিল।হঠাৎ করেই কোয়ারী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখ দেখতে হবে গর্ত মালিকদের।অন্যদিকে উপজেলার উৎমা কোয়ারীকে সরকার লীজের আওতায় আনায় ব্যাবসায়ীরা সেখানেও শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল।হঠাৎ করেই সেই লীজ বাতিল করায় একদিনেই ফকির হয়ে গেলেন ৩০/৩৫ জন পাথর ব্যাবসায়ী।
একদিকে ৫০/৬০ হাজার শ্রমিক বেকার অন্য দিকে ৩০০ শত কোটি টাকার মত ক্ষতি হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক মন্দাভাব দেখা দিতে পারে কোম্পানীগঞ্জ সহ আশে পাশের উপজেলা গুলোতে।

বাবলু নামের একজন পাথর কোয়ারী মালিক বলেন-দেশের পরিবেশ রক্ষা হোক আমরাও চাই।কিন্তু আমাদের শত শত কোটি টাকা নষ্ট করে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে চালালে লাভ হবে?বরং দেশেরই ক্ষতি হচ্ছে।আমাদেরকে এই সব গর্ত থেকে পুজি উদ্ধারের সময় বেধে দেওয়া হোক। নইলে দেশের পরিবেশ উদ্ধার হলেও আমাদের সংসারের পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে?আমরা কি চুরি করে কোয়ারীর গর্ত করেছি?নাকি রাতা রাতি এই সব কোয়ারী করেছি?দুই তিন মাস লেগেছে এই সব কোয়ারীর গর্ত করতে।স্থানীয় প্রশাসন শুরুতেই কেন এই কোয়ারী বন্ধ করে দিল না।এখন শত শত কোটি টাকা ইনভেস্ট করেছি, হুট করেই কোয়ারী বন্ধ?নিশ্চয়ই আমাদের উপজেলাকে নিয়ে বড় কোন ষড়যন্ত্র হচ্ছে।এমন কোন পাথর ব্যাবসায়ী নেই যে সে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কোয়ারীতে গর্ত করেনি। কোয়ারী যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে ব্যাংক গুলোকে বলে দিন আমাদের লোন মওকোফ করে দিতে।যখন আমাদের লোন থাকবে না তখন টেনশনও থাকবেনা।তখন আমরা অন্য ব্যাসায় চলে যাব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতা জানান- উপজেলার ৯৫ ভাগ মানুষ শ্রমজীবী। সেই সব শ্রমজীবী মানুষদের কাছে কোয়ারী খুলে দেওয়া হবে ওয়াদা দিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট এনেছিলাম।আমাদের সিলেট ৪ আসনের এমপি ইমরান আহমদ সাহেব যখন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী পদে আসীন হোন তখন খুব খুশি হয়েছিলাম।এই অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ ভেবেছিল এবার বুঝি ভাগ্য ফিরবে। কিন্তু গরীবের কেন অভাব দূর হবে?গরীবতো অভাবে থাকার জন্যেই বেচে থাকবে তাইনা?কোয়ারী না খুললে নৌকার জন্যে ভোট চাইতে পারবোনা।সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।জনগনকে কি বলে কাছে টানবো বুজতেছিনা।তাছারা কোয়ারী বন্ধের অজুহাত দেখিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষদের কাছে টানার চেষ্টা করে যাচ্ছে।বিগত ইউপি নির্বাচনের মত নৌকা মার্কা প্রার্থীরা ভরাডুবি হোক তা অবশ্যই আমাদের এমপি মহোদয় চাইবেনা?ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তত কোয়ারী খুলে দেওয়া হোক।নচেৎ শ্রমজীবী ভোটারদে বুজানো সম্ভব হবে না।