আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার জায়গা নেই: রাস্তায় ঠাই নিয়েছে ওরা Desk Desk News প্রকাশিত: ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২২ মৌসুমি বায়ু সিলেটসহ সারা দেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরসূত্রে জানা যায় আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে। সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ (শনিবার) বিকেল ৫টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও প্রবল বজ্রপাতসহ ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (৮৯ মি.মি. বা তার অধিক) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ জানান, টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সিলেটের সব কয়টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুইদিন অপরিবর্তনীয় থাকতে পারে। বেশিরভাগ এলাকার সঙ্গে সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আটকে আছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে বন্যাদুর্গত এলাকায়। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে পানি প্রবেশ করায় সেবাদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অসুস্থ অনেক মানুষকে যানবাহনের অভাবে হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না। শহর ও গ্রামের প্রায় সব সড়ক পানির নিচে ডুবে আছে। এ অবস্থায় আক্রান্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটও বন্যার্তদের উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তায় কাজ করছে। বন্যার কারণে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিলেটের দুইটি উপজেলায় গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে বন্যার পানি অতিতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দুই উপজেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত। প্রায় তিনলাখ মানুষ পানিবন্দি। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বন্যার্তীরা বহুতল ভবন কিংবা উচু স্থানের সন্ধানে নৌকায় ছুটে যাচ্ছে। অনেকে নৌকার অভাবে ঘরবন্দি। উপজেলার ৩২ ফ্লাড সেল্টার চালু থাকলে আশ্রিতদের সঙ্কুলান হচ্ছেনা সেখানে। নিদৃিষ্ট আশ্রিতের চেয়েও তিন-চার গুন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিচ্ছে। মানুষে মানুষে প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্র ভরপুর। কোথাও জায়গা না পাওয়া মসজিদ,মাদ্রাসা,মন্দিরেও আশ্রয় নিচ্ছে বানভাসিরা। অনেকে আশ্রয় না পেয়ে উচু রাস্তায় তাবু গেড়ে বসবাস করতে দেখে গেছে। অনেকে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পরেছে। ত্রাণের অভাবে অপেক্ষারত হাজার হাজার বন্যার্ত মানুষ। অধিকাংশ মানুষ ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছে। SHARES জাতীয় বিষয়: