কর্মহীন কোম্পানীগঞ্জ Desk Desk News প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০ সোহেল আহমেদঃঃ– সুদূর অতীত থেকেই কোম্পানীগঞ্জের মানুষ খনিজ পাথরকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলাকালে এই অঞ্চলের প্রায় সব শ্রেণীর মানুষই সচ্ছল ছিল। কিন্তু যান্ত্রিক পদ্ধতি শুরু হওয়ার পর থেকেই পাথরকেন্দ্রীক ব্যবসায়ীদের অনেকেই রাতারাতি কোটিপতি, আবার কেউ কেউ লোকসানের ভারে রাস্তায় নেমেছে; তবুও কিছুদিন পুঁজিহীনরা শ্রমিকের কাজ করতে পেরেছে। কিন্তু উন্নয়নের ঠেলায় এখানকার ভূগর্ভস্থ পাথর যে কোনো একদিন ফুরিয়ে যেতে পারে- তা কেউ কোনদিন ভাবেনি বা এ বিষয়ে আমল দেয়নি। তারপর যেদিন থেকে পে-লোডার ও ‘ড্রেজার বোমা’ নামক ভারী পাথর উত্তোলন ও বহনকারী মেশিনের ব্যবহার চালু হয়েছে, সেদিন থেকেই প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্রাশার মেশিনে কমপক্ষে বিশ-ত্রিশ জন শ্রমিক দৈনিক যে কাজ করত, একটা পে-লোডার সেই কাজটা মাত্র দশ/পনেরো মিনিটে সম্পন্ন করে ফেলল। এদিকে প্রতিটি পাথরের কোয়ারীতে একদিনে যতটুকু পাথর তুলতে প্রায় দেড়-দুইশত শ্রমিক লাগত, একটা ড্রেজার মেশিন দ্বারা তার’চে বেশি পাথর তুলতে সময় লাগল মাত্র ঘণ্টাখানেক! এভাবে ত্বরান্বিত হতে লাগল অত্র এলাকার পাথর ব্যবসার গতি, কিন্তু কারো টনক নড়ল না। বিত্তশালীরা তড়িৎ গতিতে উন্নত হতে লাগল, দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এসে চেটেপুটে খেতে লাগল এই এলাকার মাটি; ওদিকে দিনদিন দারিদ্র্যসীমার নিচে নামতে লাগল স্থানীয় শ্রমিকশ্রেণীর মানুষের জীবনধারা, অপরিকল্পিতভাবে গভীরতম গর্ত খুঁড়ে পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে লাগল স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ীরা। অবস্থা এমন ছিল যেন এখানকার মানুষ পাথরের কারবার ছাড়া অন্যকিছু করতেই পারবেনা! যেসব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আর প্রশাসনের লোকেরা তখন ঐ বড় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল, আজ তারা কোথায়? অথচ মাটির নিচে পাথরের মজুদ থাকাকালীন সময়েও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করলে এলাকার মজুরশ্রেণীর লোকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারত। সামান্য চিন্তা করলেই বুঝতে পারত যে- এই পাথর একসময় শেষ হবেই। ইচ্ছে করলেই পয়সাওয়ালারা আরও নানারকম উৎপাদনমুখী মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করতে পারত, এতে যেমন চলমান থাকত তাদের ব্যবসার ধারা, তেমনি বিকল্প কর্মসংস্থান পেয়ে অন্তত খেয়ে-পরে বেঁচে থাকত এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী। ইদানিং দেখা যাচ্ছে এই এলাকারই এক শ্রেণীর মানুষ জীবিকার তাগিদে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছেন। কিছু ব্যবসায়ীরাও দেউলিয়া হয়ে এলাকা ছেড়ে পালাবার উপত্রম। কিন্তু কোথায় যাবেন মশাই? কপাল ভাল হলে হয়ত আপনি অন্য এলাকার এমন কোন ব্যবসায়ীর কারখানায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ করবেন- যার ঐ কারখানা স্থাপনের পুঁজি আপনিই করে দিয়েছিলেন আপনার বুকের জমিন ভাড়া দিয়ে! মূলকথা হল- আমরা দাঁত থাকতে এর মূল্য বুঝিনা। যা ফুরিয়ে যায়- তার জন্য চেঁচামেচি করলে কোন লাভ হয়না মশাই! ★★★ কর্মহীন কোম্পানীগঞ্জ সোহেল আহমদ SHARES জেলা/উপজেলা বিষয়: