ইউপি নির্বাচন বিধিমালার গেজেট প্রকাশ, এলো বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
Oplus_131072

সংবাদ ডেস্ক: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয় ও জামানত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সমান ভোটে লটারির বদলে পুনঃভোট, সম্পদের হলফনামা বাধ্যতামূলক এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের মতো নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বুধবার তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

এক নজরে বড় পরিবর্তন

চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা।

সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা।

মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে।

ইসির ক্ষমতা বেড়েছে

নতুন বিধিমালায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত শেষে কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

এ ছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি, কারসাজি বা গুরুতর অনিয়ম হলে ওই কেন্দ্রের ফল স্থগিত করা যাবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজন হলে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।

সমান ভোটে লটারি নয়, হবে পুনঃভোট

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে আগের মতো লটারি হবে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোটের নির্দেশ দেবে নির্বাচন কমিশন।

প্রতিবন্ধী ভোটারের জন্য নতুন বিধান

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অন্য কোনো কারণে সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটার প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে অন্তত ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তাকারী সঙ্গে নিতে পারবেন।

তবে সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। ভোটারের পছন্দ গোপন রাখা বাধ্যতামূলক হবে এবং এ ধরনের ভোটারের তালিকাও সংরক্ষণ করা হবে।

 

যেসব কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে

সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি নতুন অপরাধ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া

প্রার্থীকে মনোনয়ন দাখিলে বাধা দেওয়া বা প্রত্যাহারে বাধ্য করা

গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষক বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভয়ভীতি বা হামলার মাধ্যমে বাধা দেওয়া

তাদের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা

এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মনিটরিং কমিটি ও নতুন প্রতীক

তফশিল ঘোষণার পর আচরণবিধি ও নির্বাচনি অপরাধ নজরদারিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া আসন্ন ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।