ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে লুটপাট: নৈপথ্যে ওরা কারা?

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২১

সিলেটের সব কয়টি পাথর কোয়ারীসহ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাথর কোয়ারী গুলো থেকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে পাথর উত্তোলন।

আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ নেই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সংরক্ষিত রোপওয়ে এলাকায়। রোপওয়ের (বাঙ্কার) নিরাপত্তা বাহিনী আরএনবি’র উপস্থিতিতে দিনে রাতে প্রকাশ্যে চলছে পাথর লুটের উৎসব।
সরজমিনে রবিবার বেলা ১২টায় রোপওয়ে বাংকার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় আরএনবির সদস্যদের উপস্থিতিতে দুই শতাধিক মানুষ পাথর উত্তোলন করে  অর্ধশতাধিক বাকরি নৌকায় ধলাই নদী দিয়ে পাথর পরিবহন করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোপওয়ে (বাংকার) সংরক্ষিত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের জন্যে আরএনবি’র কতিপয় দূর্ণীতিবাজ সদস্যের মদদে কালীবাড়ি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিদিনই চলছে পাথর উত্তোলন। নৌকা প্রতি পাথর উত্তোলনের জন্য রুবেলের মাধ্যমে আরএনবিকে দিতে হয় ২ হাজার টাকা। পাথর উত্তোলনের সময় রুবেল ছাড়াও ধলাই পূর্ব পাড়ে তার অন্যতম সহযোগী নাজিরগাওয়ের অফিক আহমদ ও ধলাই পশ্চিম পাড় পাড়ুয়া গ্রামের মৃত উছমান আলীর পুত্র মীর হোসেন। ভোলাগঞ্জ রোপওয়েতে পাথর লুটের সাথে সরাসরি জড়িত এরা। আরএনবি’র ক্যাশিয়ার হিসেবে নদীতে এদের দৌড়াত্ম চলে। তাদের এসব কর্মকান্ডের কিছু অডিও এবং ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

আর এদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ইসলামপুর ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বিলাল আহমদের পুত্র কেফায়াত উল্লাহ ও কলাবাড়ি গ্রামের মনফর আলীর পুত্র কথিত স্বেচছাসেবকলীগ নেতা সাহাব উদ্দিন ও তার ভাগ্না রাসেল আহমদ।

গতকাল সোমবার রাত ২টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকা থেকে পাথর লুট ও চাঁদাবাজীকালে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুলে নেতৃত্বে এসআই  সুকোমল ভট্টাচার্য রাসেল আহমদ (২৮)কে গ্রেফতার করে।
এর গত ১৫ এপ্রিল ভোরে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনকালে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা উল্টে জহিরুল আলম (২৪) নামের এক শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটে। তারপরও থেমে নেই পাথর উত্তোলনের মহা উৎসব।
এই ঘটনায় নিহতের মা রিনা বেগম বাদী হয়ে রাসেল আহমদ, সাহাব উদ্দিন ও কেফায়াত উল্লাহকে আসামী করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে (মামলা নং ১৫)। শ্রমিক নিহতের পর থেকেই আসামীরা পলাতক রয়েছে।

শ্রমিক নিহতের ঘটনার রেশ কাটতে বা কাটতেই আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠে পাথর খেকু চক্র। দিনের বেলাতেই চলছে পাথর লুট-পাট। ছোট ছোট বারকি নৌকা দিয়ে বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে লুটপাটকৃত সেই পাথর। প্রতিটি বারকি নৌকা থেকে আদায় করা হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। আর এইসব অবৈধ টাকার ভাগ চলে যাচ্ছে আরএনবি ও বিজিবি সদস্যদের পকেটে। বিনিময়ে রুবেল, মীর হোসেন ও অফিক আহমদ নৌকা প্রতি ৫ শত টাকা পাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নৌকা দিয়ে পাথর লুট করা হচ্ছে। কখনো কখনো স্থানীয় সংবাদকর্মীরা পাথর লুটপাটের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে তাদের হাতে লাঞ্চিত হতে হয়। শ্রমিক নিহতের চার দিন আগে ১১ এপ্রিল বিকালে ভোলাগঞ্জ রোপওয়েতে রুবেল গংদের পাথর লুটপাট ও চাঁদাবাজীর তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সংবাদকর্মী আব্দুল জলিল ও ফখর উদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে হামলা ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠে।
নিজেকে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জম (আতঙ্ক) পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজ মীর হোসেন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিসহ প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের গালমন্দ ও হুমকি যেন তার নিত্যকার বিষয় এবং স্বাভাবিক ঘটনা। সূত্রে জানা যায়, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের আরেক চাঁদাবাজ ও পাথর খেকু বালুচর গ্রামের কাজল সিংহের সাথে তার গোপন আলোচনা চলছে। আলোচিত চাঁদাবাজ রুবেল মিয়াকে গ্রেফতারের পর রোপওয়েসহ সংরক্ষিত এলাকার পাথর লুটপাটের সেই পরিকল্পনা এখন ভেস্তে যাবার পালা।

সংরক্ষতি এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন ও চাঁদা আদায়ের বিষয়ে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আরএনবি ইনচার্জ তাজবির আহমদ বলেন,রুবেল, মীর হোসেন ও অফিক নামে কাউকে চিনি না।তবে সাহাব উদ্দিন,রাসেল আহমদ ও কেফায়াত উল্লাহকে চিনি জানি।গত বছর লকডাইনের সময় যখন রোপওয়ের দায়িত্বে ছিল তখন তারা আমাদেরকে খরচ-পাতি দিয়েছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তাজবির আহমদ স্বীকার করেন, গত পৌরশু রোপওয়ের ভিতরে কয়েকজন নৌকা নিয়ে পাথর উত্তোলন করতে এসেছিল।

রুবেল মিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল জাহান কাজল বলেন,পূর্বের একটি পাথর লুটের মামলায় রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

(সি/স-০৩ মে-তা/ই)