নারাইনপুর রূটে শাহ আরফিন টিলার পাথর পরিবহন, কঠোর অবস্থানে অতিরিক্ত ডিআইজি

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সীমান্ত এলাকার অধিবাসীরা ভারতে অনুপ্রবেশ,মাদক চোরাচালান, শাহ আরফিন টিলা থেকে পাথর চুরিসহ নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বিজিবির এমন আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম) বিপ্লব বিজয় তালুকদার কোম্পানীগঞ্জে আসেন। শনিবার ২৬ জুন বিকাল সোয়া ৩ টায় উপজেলার শাহ আরিফন টিলা পরিদর্শন শেষে সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে মত বিনিময় ও বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করেন।

সূত্রে জানা যায়,কোম্পানীগঞ্জের নারাইনপুর গ্রামের বর্ডার এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন করে ছোট ছোট ট্রলি দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী নাগরিক ভারতে প্রবেশ করে সেই পাথর নিয়ে আসেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নারাইনপুর নামক স্থানে কাটা তারের বেড়া না থাকায় চোরাকারীরা অনায়াসেই মাদক ব্যবসায়ী চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়টি নিয়ে যে কোন সময় দু-দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। এমন অভিযোগ তদন্ত করতে আসেন অতিরিক্ত ডিআইজির সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দল এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিতে স্থানীয়দের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ভারতের ভোলাগঞ্জ বাজারে একটি অবৈধ মদ তৈরীর কারখানা রয়েছে।নারাইনপুর সীমান্তে কাটা তারের বেড়া না থাকায় সেই ভারতীয় মদ খুব সহজেই বাংলাদেশ চোরাকারীদের মাধ্যমে প্রবেশ করছে।

বিজিবির কঠোর অবস্থানেও আটকানো যাচ্ছে না চোরাকারবারিদের।

সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার এ সময় স্থানীয়দের বলেন, কোম্পানীগঞ্জ পাথর অধ্যুষিত এলাকা তাই সরকারের লিজ দেওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ পাথর উত্তোলন কিংবা পরিবহন করবেন না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে সবাইকে। সীমান্ত অপরাধ, মাদক ও চোরাকারবার থেকে দূরে থাকবেন। কেউ মাদক ব্যবসা বা সেবনের সাথে জড়িত থাকলে তার তথ্য পুলিশকে দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা শুনেছি ভারতের ভোলাগঞ্জ বাজারে একটি অবৈধ মদ তৈরির কারখানা রয়েছে। নারাইনপুর সীমান্তে কাটাতারের বেড়া না থাকায় সেই ভারতীয় মদ খুব সহজেই বাংলাদেশ চোরাকারীদের মাধ্যমে প্রবেশ করছে। বিজিবির কঠোর অবস্থানেও আটকানো যাচ্ছে না চোরাকারবারিদের। অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীকে কঠোর অবস্থান এবং আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স এন্ড ট্রাফিক) শাহিনুর রহমান (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান, সিনিয়র সহকারী  পুলিশ সুপার (গোয়াইনঘাট সার্কেল) প্রভাস কুমার সিংহ, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল, ওসি (তদন্ত) মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী,১নং  ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, ইউ/পি সদস্য আজির উদ্দিন তালুকদার।

উল্লেখ্য,গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শাহ আরফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন প্রশাসন কর্তৃক বন্ধ ঘোষণা করলেও একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে।রাত গভীর হলে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যকে ম্যানেজ করে ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ছোট ছোট ট্রলি দিয়ে পাথর পরিবহন করা হচ্ছে।সেই সব পাথর চলে যাচ্ছে ভোলাগঞ্জ ও সাকেরা এলাকার পাথর ভাঙ্গার কারখানায়।বিগত ছয় মাস যাবত শাহ আরফিন টিলা থেকে পাথর চুরির অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রুজু এবং পাথর উত্তোলনকালে কয়েক জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলেও থামানো যাচ্ছেনা পাথর চুরি।শাহ আরফিন টিলা পাথর চুরির থামাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল প্রশংসনীয় কার্যক্রম চালালেও পাথর চুরে শুনেনা ধর্মের কাহিনী।

(সি/স-২৬ জুন-তা/ই)