গোয়াইনঘাটে প্রেমের ফাদে ফেলে যুবককে খুন শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২২ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ফেইক আইডি খুলে দির্ঘদিন থেকে প্রেম! একপর্যায়ে একে অপরকে দেখা এবং হোটেলে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের আহবান করেন। দেখা করতে এসে বুজতে পারেন আইডি মালিক একজন প্রতারক। সে কোনো মেয়ে নয়। একজন ছেলে। একপর্যায়ে দুজনের বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হলে কৌশলে প্রেমিককে নিরিবিলি স্থানে নিয়ে খুন করলে কথিত প্রেমিকা নামের প্রতারক। এ ঘটনার -২ঘন্টার মধ্যেই ঘাতককে আটক করেছে পুলিশ। সিলেটের গোয়াইনঘাটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেরটায় হাত,পা বাধা অবস্থায় একটি লাশ পাওয়া গেছে। শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় সীমান্তবর্তী জাফলং এলাকার একটি টিলায়। স্থানীয়দের তথ্যমতে লাশ উদ্ধারের পর নিহতের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধার হয়। পুলিশ জানায় ফেসবুকে ফেইক আইডিতে পরিচয়, মেয়ে পরিচয়ে চ্যাটিং অত:পর জাফলংয়ে দেখা করতে এসে জিম্মি করে মুক্তিপন না দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয় প্রেমিককে। হত্যাকান্ডের স্বীকার ব্যক্তির নাম কাউছার আহমদ রাজু। সে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কালাম বহরপুর গ্রামের আব্দুল বাছিদের ছেলে। ঘাতক শামছুল ইসলাম চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার দাদনচক মিয়াপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। সে একজন চিহ্নিত প্রতারক ও দাগী অপরাধী। ঘাতক শামছুল চলতি মাসের ৯ তারিখে জাফলং মামার বাজারস্থ হোটেল মেঘালয়ে সরকারি একটি বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অবস্থান করছিল। ঘাতক শামছুলকে আটকের সময় তার কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন ১টি খেলনা পিস্তল ও ১টি কম্পিউটার হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়। নিহত কাউছার আহমদ রাজু ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগরে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতো। মোবাইল ফোনে ফ্যাক আইডি থেকে মেয়ে পরিচয়ে পরিচয়ের সূত্র ধরে গতকাল জাফলং মামার বাজারস্থ হোটেল মেঘালয়ে দেখা করতে আসে কথিত প্রেমিকার সাথে। এখানে আসার পর হোটেল কক্ষে মেয়ে পরিচয় দাতা ব্যক্তি মেয়ে নয় জেনে প্রতিবাদ করলে ঘাতক শামছুল তাকে মারপিট করে। পরে রাত ৯থেকে ১০টার দিকে ফিল্মি স্ট্যাইলে হোটেল থেকে ভিকটিম কাউছার আহমদ রাজুকে একটি ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সায় করে সংগ্রাম বিজিবি ফাড়ির অদূরে একটি টিলায় নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। ঠান্ডামাথায় হত্যাকান্ড সংগঠিত করার পর সে আবারও মামার দোকান মেঘালয় হোটেলে অবস্থান করেন। এদিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় একটি লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যান গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ, থানা অফিসার ইনচার্জ কে.এম. নজরুল ইসলাম,ইন্সপেক্টর তদন্ত ওমর ফারুক মোড়লসহ পুলিশ সদস্যরা। এ সময় নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সুরুতহাল সহ লাশ উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোন সূত্রে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। একাধিক সূত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লাশ উদ্ধারের ২ ঘন্টার ভিতরেই ঘটনায় জড়িত ঘাতক শামছুল ইসলামকে হোটেল মেঘালয় থেকে গ্রেফতারে সক্ষম হয় গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। এদিকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিস্তারিত ব্রিফ করেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ধৃত শামছুল একজন পেশাদার অপরাধী এবং আইটি এক্সপার্ট। চলতি মাসের ৯ তারিখে সে জাফলংয়ের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়ে এলাকায় একটি বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অবস্থান নেয়। ধৃত অপরাধী মোবাইল ফোনে নিহতের সাথে ফ্যাক আইডি দিয়ে পরিচয় এবং তাকে জাফলং এনে মোটা অংকের টাকা দাবী করেছিল। মুক্তপণ না পাওয়ায় ফিল্মি স্ট্যাইলে জিম্মি করে হোটেল রুম থেকে ভিকটিমকে ১টি ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সায় করে সীমান্ত এলাকায় একটি পাহাড়ে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতীয়মান হয়েছে। এদিকে নিহতের লাশ উদ্ধার পরবর্তী ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেলে কলেজে পাঠানো হয়েছে। SHARES গণমাধ্যম বিষয়: