পাথর কোয়ারী সচলের দাবীতে কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যাবসায়ী সমিতির সংবাদ সম্মেলন শের তারিকুল শের তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২০ সিলকো ডেস্কঃ-সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জসহ সবক’টি পাথর কোয়ারির পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ এ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সেখানকার লক্ষাধিক শ্রমিক; ব্যবসায়ী এবং ট্রাক ট্রাক্টর মালিকরাও দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় আছেন। একই সাথে উন্নত পাথরের অভাবে দেশের বৃহৎ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সরকারও এ কোয়ারি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এজন্য তারা আগামী রোববারের মধ্যে পাথর কোয়ারির পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করেন। অন্যথায় পরদিন সোমবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরে সমাবেশ করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুশিয়ারীও দেন তারা। বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন পাথর ব্যবসায়ী নেতারা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি, উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি এবং উপজেলা স্টিল নৌকা মালিক সমবায় সমিতি যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। লিখিত বক্তব্যে উপজেলা স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুন নূর বলেন, ‘বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ কোয়ারি নামে পরিচিত। এই পাথর সম্পদের উপর ভিত্তি করে সেখানে প্রায় ৪ শতাধিক ছোট বড় স্টোন ক্রাশার মিল স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ক্রাশার মিল মালিক শ্রমিক, ট্রাক ট্রাক্টর মালিক শ্রমিক, পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিক লোড আনলোড বেলচা শ্রমিক, বার্জ কার্গো ও বারকি নৌকা মালিক শ্রমিক মিলে লক্ষাধিক শ্রমিক পাথর উত্তোলন, সরবরাহ আর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এমতাবস্থায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর নির্দেশে সকল প্রকার পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এরপর থেকে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্রাশার মিল মালিকগণ, ট্রাক ট্রাক্টর মালিক ও পাথর ব্যবসায়ীগণ দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক হইতে বড় অংকের ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসা করে থাকেন। পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও ট্রাক ট্রাক্টর মালিকদের দায়-দেনার কারণে দেউলিয়া হইয়া পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।’ তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার সকল পাথর কোয়ারি থেকে হতে পাথর উত্তোলিত হচ্ছে। কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় ভোলাগঞ্জ কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার কারণে দেশের সরকারি-বেসরকারি ইমারত, রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালভার্টসহ অবকাঠামোগত সকল উন্নয়ন কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। পাথরের অভাবে এরই মধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা নির্মাণ কাজের সিডিউলে-দরপত্রে ভোলাগঞ্জ পাথর উল্লেখ থাকে; কিন্তু পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার কারণে নির্মাণ কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভোলাগঞ্জ কোয়ারিতে প্রচুর পরিমাণে উন্নতমানের পাথর সম্পদ থাকা স্বত্বেও একটি চক্র বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে নিম্নমানের পাথর আমদানী করে দেশের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে নির্মানাধীন প্রকল্প সমূহ স্থায়িত্ব হারাচ্ছে এবং সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।’ তিনি বলেন, পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় এলাকায় বেকারত্ব থেকে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বেড়ে যাওয়া শঙ্কাও করছেন তারা। এছাড়া মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদেই আন্দোলনমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে বলেও মন্তব্য তার। তিনি বলেন, আগামী রোববারের মধ্যে পাথর কোয়ারী সমূহ হইতে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর করা না হইলে পরদিন সোমবার সমাবেশ থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আফতাব আলী কালা মিয়া,২ নং পূর্ব ইসলাম পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া,উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বাবুল, উপজেলা স্টিল নৌকা মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মফলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম, মো. দুলাল মিয়া, মো. মেহদী হাসান ডালিম, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইলিয়াছুর রহমান, মো. মোশাহিদ আলী, মো. নুরুল আমীন, মো. মাহফুজ মিয়া, জসিমুল ইসলাম আঙ্গুর, মো. তেরা মিয়া, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. হোসন নূর, মো. গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ। SHARES জেলা/উপজেলা বিষয়: